ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় ভুয়া কাগজপত্রে জমি দলিল করতে গিয়ে ধরা দলিল লেখক

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগ মো. রহিছ মিয়া (৫৫) নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার দুপুরে মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গত ২৮ জুন তাকে এই শোকজ করা হয়। তবে সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. রহিছ মিয়া মদন পৌরশহরের বাসিন্দা। তাঁর দলিল লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭।

সংশ্লিষ্ট লোকজন ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন রহিছ মিয়া ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে একটি জমির প্রস্তুত করে নিবন্ধনের জন্য সাব- রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করেন। দলিলটি যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনায় দেখা যায়, দাখিল করা বায়না দলিলের নকলটি ভুয়া ও জাল। সেইসাথে পূর্ববর্তী দলিল বা উৎস দলিলটিও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তাকে আাগীম সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, নিবন্ধনে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল দলিল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে তার চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে আগের মতোই দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার অভিযুক্ত দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, জামির মালিকপক্ষ আমাকে যে কাগজপত্র দিয়েছে, সেই অনুযায়ী দলিল লিখে জমা দিয়েছিলাম। সেগুলো জাল কিনা জানতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমার কোনো ভুল নেই।
তিনি বলেন, যথা সময়েই শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছি। উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় জমা দেন দলিল লেখক রহিছ মিয়া। কাগজপত্রে দেখে সন্দেহ হলে জেলা মহাফেজখানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম জমাকৃত উৎস দলিলটি জাল। এক্ষেত্রে বায়না ও নামজারির কাগজপত্রও জাল পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এসব কাগজপত্র যাচাই করে দলিল প্রস্তুত করার দায়িত্ব দলিল লেখকের। তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রহিছ মিয়া ইতিমধ্যে তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। তার দেওয়া জবাবটি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনো তার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তিনিই (জেলা রেজিস্ট্রার) এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রহিছ মিয়াকে দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নেত্রকোনায় ভুয়া কাগজপত্রে জমি দলিল করতে গিয়ে ধরা দলিল লেখক

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগ মো. রহিছ মিয়া (৫৫) নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার দুপুরে মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গত ২৮ জুন তাকে এই শোকজ করা হয়। তবে সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. রহিছ মিয়া মদন পৌরশহরের বাসিন্দা। তাঁর দলিল লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭।

সংশ্লিষ্ট লোকজন ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন রহিছ মিয়া ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে একটি জমির প্রস্তুত করে নিবন্ধনের জন্য সাব- রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করেন। দলিলটি যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনায় দেখা যায়, দাখিল করা বায়না দলিলের নকলটি ভুয়া ও জাল। সেইসাথে পূর্ববর্তী দলিল বা উৎস দলিলটিও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তাকে আাগীম সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, নিবন্ধনে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল দলিল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে তার চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে আগের মতোই দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার অভিযুক্ত দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, জামির মালিকপক্ষ আমাকে যে কাগজপত্র দিয়েছে, সেই অনুযায়ী দলিল লিখে জমা দিয়েছিলাম। সেগুলো জাল কিনা জানতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমার কোনো ভুল নেই।
তিনি বলেন, যথা সময়েই শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছি। উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় জমা দেন দলিল লেখক রহিছ মিয়া। কাগজপত্রে দেখে সন্দেহ হলে জেলা মহাফেজখানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম জমাকৃত উৎস দলিলটি জাল। এক্ষেত্রে বায়না ও নামজারির কাগজপত্রও জাল পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এসব কাগজপত্র যাচাই করে দলিল প্রস্তুত করার দায়িত্ব দলিল লেখকের। তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রহিছ মিয়া ইতিমধ্যে তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। তার দেওয়া জবাবটি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনো তার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তিনিই (জেলা রেজিস্ট্রার) এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রহিছ মিয়াকে দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।