সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টেকনাফ উপজেলা পরিষদে একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক-অস্ত্র চোরাচালান রোধ, পাহাড়ি সন্ত্রাস দমন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নাফ নদী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্টগার্ডের চলমান টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান এবং মানব পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই বিশেষ সভায় গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তগুলো হলো:
পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ ও অস্ত্র উদ্ধার: পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় থাকা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেওয়া দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের দমনে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা।
বহিরাগত রোহিঙ্গা শনাক্তকরণ: ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ও ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা।
অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকশন: তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে উপজেলার সর্বত্র অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযান পরিচালনা করা।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখে দিতে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করবে। অপরাধীদের দমনে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
উক্ত সভায় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টেকনাফ প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















