ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের লালপুরে সাজিদ জুট মিলে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি:রহস্য উদঘাটন, আন্তঃজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার।

নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত “সাজিদ জুট মিলস্”-এ সংঘটিত বহুল আলোচিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশ। যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ১২-১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুট মিলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা মিলের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। পরে রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুট করা মালামাল সরিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করলে (মামলা নং-৪৩, তারিখ: ৩০/০৫/২০২৬, ধারা-৩৯৫, পেনাল কোড ১৮৬০) পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)।
সকলেই পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত মালামাল:
তামার তার ৩০০ কেজি
রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ ১টি
ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান ১টি
মোবাইল ফোন ৫টি

নগদ ৫০,০০০ টাকা (লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রয়লব্ধ)
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নাটোরের লালপুরে সাজিদ জুট মিলে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি:রহস্য উদঘাটন, আন্তঃজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার।

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত “সাজিদ জুট মিলস্”-এ সংঘটিত বহুল আলোচিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশ। যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ১২-১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুট মিলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা মিলের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। পরে রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুট করা মালামাল সরিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করলে (মামলা নং-৪৩, তারিখ: ৩০/০৫/২০২৬, ধারা-৩৯৫, পেনাল কোড ১৮৬০) পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)।
সকলেই পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত মালামাল:
তামার তার ৩০০ কেজি
রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ ১টি
ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান ১টি
মোবাইল ফোন ৫টি

নগদ ৫০,০০০ টাকা (লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রয়লব্ধ)
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।