চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের বৃহত্তর রস্যবিল এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের দাবিতে এলাকাবাসী জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সমাজসেবক ও দানবীর নবকুমার তঞ্চঙ্গা ২০১৪ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্দেশ্যে ৮ কাঠা জমি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দান করেন। তবে দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালেও ওই জমিতে ক্লিনিক নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহত্তর রস্যবিল এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের বসবাস। দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলে আদিবাসী ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করলেও সেখানে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
১৩ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে দ্রুত নবকুমার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যসেবা সংকটে রয়েছেন। দ্রুত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী বলেন, “নবকুমার তঞ্চঙ্গা একজন দানবীর। তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছেন। আমরা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর কাছে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানাব।”
এলাকাবাসী জানান, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম শহরে নিতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নবকুমার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, বহু আগে দান করা জমিতে দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর রস্যবিল এলাকার হাজারো মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে এবং দুর্গম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা-সংকট অনেকটাই দূর হবে।
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: ওমর ফারুক 



















