ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীতে গোসলে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে দুই বন্ধু

শৈশব থেকে একই উঠানে খেলাধুলা, ধুলোমাখা পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা আর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা—অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানার জীবন ছিল এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের গল্প। নিয়তি যেন সেই বন্ধনকে মৃত্যুতেও আলাদা করতে পারেনি। তাই জীবনের শেষ যাত্রাতেও তারা রয়ে গেলেন পাশাপাশি।

ঈদের আনন্দ শেষ হওয়ার আগেই রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর শীতল জল কেড়ে নিল দুই কিশোর বন্ধুর প্রাণ। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহত অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানা উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুজনই ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। মাসুদ পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করলেও ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। অন্যদিকে ভ্যানচালক বাবার অভাবের সংসারে সহায়তা করতে এক বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমান অহিদ। তিনিও মাত্র দুই দিন আগে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরেছিলেন।

শুক্রবার সকালে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির অদূরে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামেন তারা। কিন্তু সাঁতার না জানার কারণে একপর্যায়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান দুজনেই। ঘটনাস্থলেই অহিদের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা মাসুদকে উদ্ধার করে দ্রুত তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

বিকেলে তেলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে ঘরগুলোতে ঈদের আনন্দ আর হাসির রোল থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর আহাজারি। দুই প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “সবই আল্লাহর লিখন। ছোটবেলা থেকে ওরা একসঙ্গে ছিল, আজ একসঙ্গে চলেও গেল। কবরেও তারা পাশাপাশি রইল।”

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজ শেষে খিয়ারডাঙ্গা কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবরে দুই বন্ধুকে দাফন করা হয়।

অভাবের সংসারে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে যারা শহরে পাড়ি জমিয়েছিল, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরে তাদের এমন করুণ বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চিরচেনা সেই ধুলোমাখা পথ আর যমুনেশ্বরীর পাড় আজ নীরব সাক্ষী হয়ে রইল দুই বন্ধুর অটুট বন্ধুত্বের শেষ গল্পের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নদীতে গোসলে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে দুই বন্ধু

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

শৈশব থেকে একই উঠানে খেলাধুলা, ধুলোমাখা পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা আর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা—অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানার জীবন ছিল এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের গল্প। নিয়তি যেন সেই বন্ধনকে মৃত্যুতেও আলাদা করতে পারেনি। তাই জীবনের শেষ যাত্রাতেও তারা রয়ে গেলেন পাশাপাশি।

ঈদের আনন্দ শেষ হওয়ার আগেই রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর শীতল জল কেড়ে নিল দুই কিশোর বন্ধুর প্রাণ। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহত অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানা উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুজনই ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। মাসুদ পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করলেও ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। অন্যদিকে ভ্যানচালক বাবার অভাবের সংসারে সহায়তা করতে এক বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমান অহিদ। তিনিও মাত্র দুই দিন আগে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরেছিলেন।

শুক্রবার সকালে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির অদূরে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামেন তারা। কিন্তু সাঁতার না জানার কারণে একপর্যায়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান দুজনেই। ঘটনাস্থলেই অহিদের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা মাসুদকে উদ্ধার করে দ্রুত তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

বিকেলে তেলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে ঘরগুলোতে ঈদের আনন্দ আর হাসির রোল থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর আহাজারি। দুই প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “সবই আল্লাহর লিখন। ছোটবেলা থেকে ওরা একসঙ্গে ছিল, আজ একসঙ্গে চলেও গেল। কবরেও তারা পাশাপাশি রইল।”

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজ শেষে খিয়ারডাঙ্গা কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবরে দুই বন্ধুকে দাফন করা হয়।

অভাবের সংসারে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে যারা শহরে পাড়ি জমিয়েছিল, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরে তাদের এমন করুণ বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চিরচেনা সেই ধুলোমাখা পথ আর যমুনেশ্বরীর পাড় আজ নীরব সাক্ষী হয়ে রইল দুই বন্ধুর অটুট বন্ধুত্বের শেষ গল্পের।