ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর পোরশায় ৭ মাসে ১৯ অপমৃত্যু: শীর্ষে আত্মহত্যা ও সাপের কামড়

 

 

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় গত সাত মাসে ১৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু (অপমৃত্যু) হয়েছে। পারিবারিক কলহ, অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত নানা কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং সর্পদংশনের ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
​সর্বোচ্চ আত্মহত্যা ও সর্পদংশন
​প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত সাত মাসে উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন গলায় ফাঁস দিয়ে এবং দুজন বিষ ও ঘুমের ওষুধ সেবন করে জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন।
​গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা: তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পলাশ ডাঙ্গা গ্রামের অতুল বর্মন (৬০), বড় রনাইল গ্রামের প্রশান্ত বর্মন (২৫), মশিদপুর ইউনিয়নের বালিচাঁদ গ্রামের জুয়েল মন্ডল (৩৯) এবং ঘাটনগর ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী (৪৭)।
​বিষ ও ওষুধ সেবনে আত্মহত্যা: তাঁতিপাড়া গ্রামের সুমাইয়া জান্নাত (১৮) বিষপানে এবং ছাওড় খাতিরপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম রাজু (১৮) অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন।
​অন্যদিকে, অসাবধানতার কারণে সর্পদংশনে প্রাণ গেছে ৪ জনের। গত মে মাসে ঠিকাদার সামিনুল ইসলাম শাহ্ (৫৫), ৮ জুলাই শিশু আবদুল্লাহ (১০), ১৭ জুলাই রাকিবুল ইসলাম (১৭) এবং ৩১ জুলাই ফাওজিয়া (৪৬) সাপের কামড়ে মারা যান।
​বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, পানিতে ডুবে ও দুর্ঘটনায় অন্যান্য মৃত্যু
​উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও কম নয়:
​বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু (৪ জন): শোভাপুর গ্রামের তহুরুল ইসলাম (৩৬), শিশা ডাঙ্গাপাড়ার সাইদুল ইসলাম (৪০) এবং গত ২৮ জুলাই কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ (২৭) ও মাহবুর রহমান (২৮)।
​পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু (২ জন): ছাতিয়া গ্রামের শিশু ফাতেমা (৬) ও নিতপুর পূর্ব দিয়াড়াপাড়া গ্রামের শিশু মাহিম (৭)।
​সড়ক দুর্ঘটনা (২ জন): সরাইগাছি কাতিপুর গ্রামের হাফিজদ্দিন হাপি (৬৫) এবং নছিমন-ভটভটির ধাক্কায় আদিবাসী নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রামলাল কুজুর (৪০) নিহত হন।
​হত্যা ও মরদেহ উদ্ধার
​রিপোর্টে দুটি হত্যাকাণ্ডের তথ্যও উঠে এসেছে। গত ১ এপ্রিল পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছোঁড়া প্রেসার কুকারের আঘাতে মর্জিনা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন (এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ)। এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিতপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর কুলাডাঙ্গা খাড়ির ধার থেকে বুলু (৫৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
​পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
​পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার পরই থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
​তিনি আরও যোগ করেন, > “আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এসব অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যু রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নওগাঁর পোরশায় ৭ মাসে ১৯ অপমৃত্যু: শীর্ষে আত্মহত্যা ও সাপের কামড়

আপডেট সময় : ০১:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

 

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় গত সাত মাসে ১৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু (অপমৃত্যু) হয়েছে। পারিবারিক কলহ, অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত নানা কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং সর্পদংশনের ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
​সর্বোচ্চ আত্মহত্যা ও সর্পদংশন
​প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত সাত মাসে উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন গলায় ফাঁস দিয়ে এবং দুজন বিষ ও ঘুমের ওষুধ সেবন করে জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন।
​গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা: তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পলাশ ডাঙ্গা গ্রামের অতুল বর্মন (৬০), বড় রনাইল গ্রামের প্রশান্ত বর্মন (২৫), মশিদপুর ইউনিয়নের বালিচাঁদ গ্রামের জুয়েল মন্ডল (৩৯) এবং ঘাটনগর ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী (৪৭)।
​বিষ ও ওষুধ সেবনে আত্মহত্যা: তাঁতিপাড়া গ্রামের সুমাইয়া জান্নাত (১৮) বিষপানে এবং ছাওড় খাতিরপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম রাজু (১৮) অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন।
​অন্যদিকে, অসাবধানতার কারণে সর্পদংশনে প্রাণ গেছে ৪ জনের। গত মে মাসে ঠিকাদার সামিনুল ইসলাম শাহ্ (৫৫), ৮ জুলাই শিশু আবদুল্লাহ (১০), ১৭ জুলাই রাকিবুল ইসলাম (১৭) এবং ৩১ জুলাই ফাওজিয়া (৪৬) সাপের কামড়ে মারা যান।
​বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, পানিতে ডুবে ও দুর্ঘটনায় অন্যান্য মৃত্যু
​উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও কম নয়:
​বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু (৪ জন): শোভাপুর গ্রামের তহুরুল ইসলাম (৩৬), শিশা ডাঙ্গাপাড়ার সাইদুল ইসলাম (৪০) এবং গত ২৮ জুলাই কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ (২৭) ও মাহবুর রহমান (২৮)।
​পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু (২ জন): ছাতিয়া গ্রামের শিশু ফাতেমা (৬) ও নিতপুর পূর্ব দিয়াড়াপাড়া গ্রামের শিশু মাহিম (৭)।
​সড়ক দুর্ঘটনা (২ জন): সরাইগাছি কাতিপুর গ্রামের হাফিজদ্দিন হাপি (৬৫) এবং নছিমন-ভটভটির ধাক্কায় আদিবাসী নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রামলাল কুজুর (৪০) নিহত হন।
​হত্যা ও মরদেহ উদ্ধার
​রিপোর্টে দুটি হত্যাকাণ্ডের তথ্যও উঠে এসেছে। গত ১ এপ্রিল পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছোঁড়া প্রেসার কুকারের আঘাতে মর্জিনা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন (এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ)। এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিতপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর কুলাডাঙ্গা খাড়ির ধার থেকে বুলু (৫৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
​পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
​পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার পরই থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
​তিনি আরও যোগ করেন, > “আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এসব অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যু রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে