কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী অঞ্চলের ধরলা নদীর অববাহিকায় বহুল প্রত্যাশিত বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৭ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকিউএমএস (EQMS)-এর যৌথ উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
”পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা” বিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল— ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়)’।
দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার বাংটুর ঘাটের এই অববাহিকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের সমীক্ষা চলায় স্থানীয় লাখো মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। আজ সভায় এই সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের বক্তব্য ও দাবির কথা জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান: অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন, “বাংটুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। আমরা বিভিন্ন সভা সেমিনার মানববন্ধন এর মাধ্যমে সরকারের উচ্চমহলে আমরা বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছি। আজ এই সমীক্ষা প্রকল্প শুরু হওয়াতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
“বর্ষা মৌসুমে এই ঘাটে পারাপার হতে গিয়ে আমাদের এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেতুটি নির্মিত হলে গ্রামীণ যোগাযোগের এই বড় বাধা দূর হবে এবং মানুষের জীবন বাঁচবে।”
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থী: সারডোব ও ফুলবাড়ী অঞ্চলের কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “বাংটুর ঘাটে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে নদী পার হয়ে কুড়িগ্রাম শহরে গিয়ে আমাদের ক্লাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এখানে সেতু হলে আমরা নিরাপদে ও নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্টানে যাতায়াত করতে পারব।”
ব্যবসায়ী: স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে মালামাল নদী পার করতে আমাদের দ্বিগুণ খরচ ও সময় নষ্ট হয়। বাংটুর ঘাটে সেতুটি নির্মিত হলে এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে এক নতুন জোয়ার আসবে।”
কৃষক: স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, “আমরা কষ্ট করে আলু, ধান, ভুট্টা ও শাকসবজি ফলাই। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় আমরা ফসলের ন্যায্য দাম পাই না। সেতুটি হলে আমরা সরাসরি কুড়িগ্রাম বা কাঠাল বাড়ীর বাজারে গিয়ে আমাদের উৎপাদিত ফসল ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।”
শিক্ষক: স্থানীয় মাদরাসা চর হলোখানা এমদাদিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জনাব মাও:মো: আব্দুল জলিল খন্দকার বলেন, “একটি সেতু শুধু যাতায়াত সহজ করে না, একটি অঞ্চলের শিক্ষার আলো ও উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। এই সেতুটি শিক্ষা ব্যবস্থার মান বাড়াতে দারুণ সহায়ক হবে।”
সাধারণ জনগণ: স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা বলেন, “বাংটুর ঘাটে সেতু আমাদের বাঁচার দাবি। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই—দ্রুত যেন এই অতিপ্রয়োজনীয় সেতুর বাস্তব কাজ শুরু করা হয়।”
পরিবেশগত সুরক্ষার তাগিদ:
সভায় প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এবং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং আয়োজক সংস্থা EQMS-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত স্থানীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে এবং স্থানীয় নদী অববাহিকার জীববৈচিত্র্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই এই সেতু প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এলজিইডি-র কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের নানাবিধ প্রস্তাবনা ও সমর্থন তুলে ধরেন।
কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ ফারুক মিয়া 



















