ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ভোগের চরম সীমায় পীর ফজলুল্লাহ রোড: সংস্কারের অভাবে বেহাল পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কাফিলাতলী সড়ক।

রায়পুর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে শুরু করে কাফিলাতুলি পর্যন্ত রাস্তার চরম অবস্থা
সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে পীর ফজলুল্লাহ রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয় থেকে শুরু করে কাফলাতলী পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চালকেরা। পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
খানাখন্দ আর ধুলো-বালির রাজত্ব
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে কাফলাতলী পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং ও পিচ সম্পূর্ণ উঠে গেছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কটি এখন যেন কোনো গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে যানবাহন চলাচলের সময় প্রচণ্ড ধুলো-বালিতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, যা পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি ডোবায় রূপ নেয়। তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা।
প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, থমকে গেছে গতি
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা জানান, এই রাস্তায় গাড়ি চালালে পার্টস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আয়ের বড় অংশই চলে যায় গাড়ি মেরামতে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও বক্তব্য
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সামনের রাস্তার যদি এই দশা হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু চলাচলের জন্য ন্যূনতম ভালো রাস্তা পাচ্ছি না।”
আরেকজন নিয়মিত পথচারী বলেন, “বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। নোংরা পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হয়। আমরা দ্রুত এই রাস্তার সংস্কার চাই।”
প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনায় এলাকাবাসী
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি এই অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

দুর্ভোগের চরম সীমায় পীর ফজলুল্লাহ রোড: সংস্কারের অভাবে বেহাল পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কাফিলাতলী সড়ক।

আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রায়পুর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে শুরু করে কাফিলাতুলি পর্যন্ত রাস্তার চরম অবস্থা
সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে পীর ফজলুল্লাহ রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয় থেকে শুরু করে কাফলাতলী পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চালকেরা। পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
খানাখন্দ আর ধুলো-বালির রাজত্ব
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে কাফলাতলী পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং ও পিচ সম্পূর্ণ উঠে গেছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কটি এখন যেন কোনো গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে যানবাহন চলাচলের সময় প্রচণ্ড ধুলো-বালিতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, যা পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি ডোবায় রূপ নেয়। তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা।
প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, থমকে গেছে গতি
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা জানান, এই রাস্তায় গাড়ি চালালে পার্টস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আয়ের বড় অংশই চলে যায় গাড়ি মেরামতে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও বক্তব্য
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সামনের রাস্তার যদি এই দশা হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু চলাচলের জন্য ন্যূনতম ভালো রাস্তা পাচ্ছি না।”
আরেকজন নিয়মিত পথচারী বলেন, “বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। নোংরা পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হয়। আমরা দ্রুত এই রাস্তার সংস্কার চাই।”
প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনায় এলাকাবাসী
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি এই অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।