ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য কলহের জেরে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ক্যাম্পাসে শোক

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপা দাস দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দীপা দাস তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে বিষয়টি টের পেয়ে তার স্বামী দারোয়ানের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত দীপা দাস মেহেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও পড়াশোনার সুবাদে স্বামীর সঙ্গে গোপালগঞ্জ শহরে বসবাস করছিলেন। তিনি বাংলা বিভাগের একজন মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে তার সহপাঠীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীপা অত্যন্ত অমায়িক ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন, তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. আহসান সৌরভ জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিশেষ করে বাংলা বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

দাম্পত্য কলহের জেরে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ক্যাম্পাসে শোক

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপা দাস দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দীপা দাস তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে বিষয়টি টের পেয়ে তার স্বামী দারোয়ানের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত দীপা দাস মেহেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও পড়াশোনার সুবাদে স্বামীর সঙ্গে গোপালগঞ্জ শহরে বসবাস করছিলেন। তিনি বাংলা বিভাগের একজন মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে তার সহপাঠীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীপা অত্যন্ত অমায়িক ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন, তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. আহসান সৌরভ জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিশেষ করে বাংলা বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।