ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 57

থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের স্থাপনা নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি/তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি, ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশের থানা/ফাঁড়ি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশ বাস্তবায়ন করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ৪৮টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো-বর্ধিত পুলিশ জনবলের জন্য পর্যাপ্ত অফিস ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

একনেক সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিভিন্ন চেকপোস্ট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের এত ইউনিট থাকলেও তাদের থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব স্থাপনা অত্যন্ত জরুরি এবং অনেক আগেই করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত ছিল।’পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতায় পুলিশ স্থাপনাগুলোর নির্মাণ ও সিভিল কাজ, প্রকল্প ও পুলিশ অফিসের জন্য আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের জন্য আসবাব সরবরাহ, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে।

পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও ল্যান্ডস্কেপিং কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।কর্মকর্তারা জানান, অনেক পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়ি বর্তমানে অস্থায়ী স্থাপনা, ভাড়াবাড়ি বা জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যা কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।

প্রকল্পের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়িয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমন এবং মহাসড়কে অযোগ্য ও অননুমোদিত যানবাহন তদারকি জোরদার করা হবে।

নৌপথে যাত্রী ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলদস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধ, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ এবং অনুপযুক্ত নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নৌ-পুলিশের অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ ছাড়া জরাজীর্ণ রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি সংস্কার এবং নতুন স্থাপনা নির্মাণ, পর্যটন কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় আধুনিক ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র নির্মাণও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একনেকের অনুমোদনের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জননিরাপত্তা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কভারেজ সম্প্রসারণ এবং দেশব্যাপী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের উদ্যোগ আরো জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের স্থাপনা নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি/তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি, ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশের থানা/ফাঁড়ি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশ বাস্তবায়ন করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ৪৮টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো-বর্ধিত পুলিশ জনবলের জন্য পর্যাপ্ত অফিস ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

একনেক সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিভিন্ন চেকপোস্ট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের এত ইউনিট থাকলেও তাদের থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব স্থাপনা অত্যন্ত জরুরি এবং অনেক আগেই করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত ছিল।’পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতায় পুলিশ স্থাপনাগুলোর নির্মাণ ও সিভিল কাজ, প্রকল্প ও পুলিশ অফিসের জন্য আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের জন্য আসবাব সরবরাহ, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে।

পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও ল্যান্ডস্কেপিং কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।কর্মকর্তারা জানান, অনেক পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়ি বর্তমানে অস্থায়ী স্থাপনা, ভাড়াবাড়ি বা জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যা কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।

প্রকল্পের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়িয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমন এবং মহাসড়কে অযোগ্য ও অননুমোদিত যানবাহন তদারকি জোরদার করা হবে।

নৌপথে যাত্রী ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলদস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধ, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ এবং অনুপযুক্ত নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নৌ-পুলিশের অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ ছাড়া জরাজীর্ণ রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি সংস্কার এবং নতুন স্থাপনা নির্মাণ, পর্যটন কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় আধুনিক ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র নির্মাণও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একনেকের অনুমোদনের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জননিরাপত্তা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কভারেজ সম্প্রসারণ এবং দেশব্যাপী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের উদ্যোগ আরো জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।