ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্যাগ, সংগঠন ও জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি: সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামির হোসেন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায়

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোঃ জামির হোসেন। বর্তমানে তিনি বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে।

জামির হোসেনের পিতা গোলাম রহমান। তাঁর গ্রামের বাড়ি আলিপুর, ডাকঘর এস. বাঁকড়া, উপজেলা ঝিকরগাছা, জেলা যশোর। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির সবচেয়ে প্রতিকূল সময়ে যখন অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন, তখন জামির হোসেন ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবি, বাঁকড়া ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হন, দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন এবং একপর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। এ সময় তাঁর পরিবারও নানা ভোগান্তির শিকার হয় এবং তিনি অর্থনৈতিকভাবেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতে, জামির হোসেন সবসময় তৃণমূলের কর্মীদের পাশে থেকেছেন। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতাকর্মীর ভাষায়, তিনি তাঁদের আস্থার প্রতীক এবং প্রিয় সংগঠক। মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, ৩১৪ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নির বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবেও জামির হোসেন পরিচিত। তাঁদের ভাষ্য, তিনি পরিবারতন্ত্র বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তিনি কখনো জড়াননি বলেও নেতাকর্মীরা দাবি করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলের দুঃসময়ে যেসব নেতা-কর্মী বিএনপির পাশে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন ও সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার নীতিতে বিশ্বাসী জামির হোসেন। সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ই তাঁর রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি বলে তারা মনে করেন।

অতীতের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুইবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামির হোসেন বর্তমানে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে জামির হোসেন বলেন, “রাজনীতিকে আমি মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় এবং জনগণ আস্থা রাখেন, তাহলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী বাঁকড়া ইউনিয়ন গড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দুঃসময়ে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাঁদের নিয়েই আগামীর পথচলা অব্যাহত থাকবে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা, প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বিবেচনায় বাঁকড়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জামির হোসেনকে ঘিরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ত্যাগ, সংগঠন ও জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি: সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামির হোসেন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায়

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোঃ জামির হোসেন। বর্তমানে তিনি বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে।

জামির হোসেনের পিতা গোলাম রহমান। তাঁর গ্রামের বাড়ি আলিপুর, ডাকঘর এস. বাঁকড়া, উপজেলা ঝিকরগাছা, জেলা যশোর। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির সবচেয়ে প্রতিকূল সময়ে যখন অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন, তখন জামির হোসেন ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবি, বাঁকড়া ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হন, দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন এবং একপর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। এ সময় তাঁর পরিবারও নানা ভোগান্তির শিকার হয় এবং তিনি অর্থনৈতিকভাবেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতে, জামির হোসেন সবসময় তৃণমূলের কর্মীদের পাশে থেকেছেন। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতাকর্মীর ভাষায়, তিনি তাঁদের আস্থার প্রতীক এবং প্রিয় সংগঠক। মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, ৩১৪ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নির বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবেও জামির হোসেন পরিচিত। তাঁদের ভাষ্য, তিনি পরিবারতন্ত্র বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তিনি কখনো জড়াননি বলেও নেতাকর্মীরা দাবি করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলের দুঃসময়ে যেসব নেতা-কর্মী বিএনপির পাশে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন ও সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার নীতিতে বিশ্বাসী জামির হোসেন। সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ই তাঁর রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি বলে তারা মনে করেন।

অতীতের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুইবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামির হোসেন বর্তমানে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে জামির হোসেন বলেন, “রাজনীতিকে আমি মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় এবং জনগণ আস্থা রাখেন, তাহলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী বাঁকড়া ইউনিয়ন গড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দুঃসময়ে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাঁদের নিয়েই আগামীর পথচলা অব্যাহত থাকবে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা, প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বিবেচনায় বাঁকড়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জামির হোসেনকে ঘিরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।