কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ এ ক্রসবাঁধ রক্ষা করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার একটি অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতে বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
বাঁধটি ধসে গেলে রাজারহাট উপজেলার বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বেন। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় পাঁচটি বাজারও।
স্থানীয় বাসিন্দা বাহারর আলী ও সালাম মিয়া বলেন, সোমবার থেকেই তিস্তা নদীতে স্রোত বেড়ে যায়। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। আগেই আশঙ্কার কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বুড়িরহাটের বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, “শুকনা মৌসুমে এখানে বালু ছিল। একটি জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু সরে যাচ্ছে—এ অবস্থায় কীভাবে ভাঙন সামলাবে?”
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটারে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।
ভাঙনের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, “জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। দ্রুত ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তিস্তার স্রোতে ক্রসবাঁধের বাকি অংশও ভেঙে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিস্তার পানিতে বাড়ছে ভাঙন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার নদীগর্ভে
-
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা - আপডেট সময় : ০১:২৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 31
জনপ্রিয় সংবাদ




















