কৃষিবিদ প্রফেসর ডক্টর দেলোয়ার হোসেন টাংগাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোবরা গ্রামের কৃতি সন্তান। তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী সম্পর্কে তার লেখা তোলে ধরা হল :
তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা মাছ নয়। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। এদের গর্ভকাল প্রায় ১ বছর এবং জন্মের পর ১-২ বছর পর্যন্ত মা তিমি বাছুরকে বুকের দুধ খাইয়ে লালন-পালন করে।
তিমির খাদ্য:
তিমি অনেক সময়ই মানুষকে আক্রমণ করে থাকে। তবে খেয়ে ফেলে না। কোনো প্রজাতির তিমির পক্ষেই মানুষকে খেয়ে ফেলা সম্ভব নয়। কারণ তিমির গলনালী দেহের তুলনায় খুব ছোট। এজ্য একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে গিলে খেতে গেলে নিজেকেই শ্বাসরোধ হয়ে মারা যেতে হবে। বিশাল বপুর এই প্রাণীরা মূলত ছোট ছোট জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। এর মধ্যে আছে ছোট মাছ, স্কুইড, ক্রিল (চিংড়ি ও এ জাতীয় মাছ)। বেশিরভাগ তিমিতে দাঁতের বদলে চিরুনির মতো দেখতে ছাঁকনির মতো একটা জিনিস আছে। নাম ব্যালিন। ফলে চিবিয়ে খাবারকে খাওয়া তিমির পক্ষে সম্ভব হয় না।
তিমির প্রজনন প্রক্রিয়া:
প্রজননের জন্য তিমিরা মাইগ্রেশন বা স্থান পরিবর্তন করে। এরা সাধারণত প্রজননের জন্য হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা জল থেকে উষ্ণ ক্রান্তীয় সমুদ্রে চলে যায়। গ্রীষ্মকালে এরা মেরু অঞ্চলে প্রচুর খাবার খায় এবং শীতকালে উষ্ণ জলে (যেমন- হাওয়াই বা বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চল) প্রজনন ও সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পাড়ি জমায়। প্রজাতিভেদে তিমির গর্ভকাল বা জেস্টেশন পিরিয়ড ১১ থেকে ১৬ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্ত্রী তিমি সাধারণত একবারে একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের পরপরই মা তিমি বাছুরকে পানির উপরে তুলে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। মা তিমি প্রায় ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাছুরকে বুকের দুধ পান করায়। একটি বাছুরকে সম্পূর্ণ বড় করে তুলতে সময় লাগায় তিমি সাধারণত ২ বা ৩ বছর পর পর একবার প্রজনন করে।
জন্মের সময় একটি নীল তিমির বাচ্চার ওজন হয় প্রায় ২,৭০০ থেকে ৩,০০০ কেজি (প্রায় ২.৭ থেকে ৩ টন)। এ সময় এদের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ফুট। পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর বাচ্চাদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় এবং ভারী জন্মের রেকর্ড। জন্মের পর এরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বড় হয় এবং প্রতিদিন তাদের ওজন প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত বাড়ে। একটি পূর্ণবয়স্ক নীল তিমির ওজন সাধারণত প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন (বা ১,৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ কেজি) পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত টিকে থাকা সবচেয়ে বড় প্রাণী। নীল তিমির ওজনের বিশালতা বুঝতে কিছু অবাক করা তথ্য:
* হাতির সাথে তুলনা: এদের ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি আফ্রিকান হাতির ওজনের সমান।
* অন্যান্য অঙ্গের ওজন: একটি নীল তিমির শুধুমাত্র জিহ্বার ওজনই একটি পূর্ণাঙ্গ হাতির ওজনের (প্রায় ৩,০০০ কেজি) সমান হতে পারে! এদের হৃৎপিণ্ড একটি ছোট গাড়ির সমান ভারী হয়।
* বাচ্চা তিমির ওজন: জন্মের সময় একটি নীল তিমির বাচ্চার ওজন থাকে প্রায় ২,৭০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ২৭ ফুট।
প্রজাতিভেদে তিমি সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ বছর বাঁচে। তবে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রজাতির তিমি (যেমন- বোউহেড তিমি) ২০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
তিমির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
* বোউহেড তিমি: এরা সবচেয়ে দীর্ঘজীবী, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকে।
* নীল তিমি: পৃথিবীর বৃহত্তম এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর গড় আয়ু ৮০ থেকে ৯০ বছরের মতো। কিছু নীল তিমির ১০০ বছরের বেশি বাঁচার রেকর্ডও রয়েছে।
* স্পার্ম তিমি: এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর।
তিমির বয়স মূলত বিজ্ঞানীরা এদের কানের মোমের স্তর বা দাঁত পরীক্ষা করে নির্ধারণ করে থাকেন।
তিমি সাধারণত একসাথে একটি বাচ্চা প্রসব করে। কদাচিৎ যমজ বাচ্চা প্রসবের ঘটনা ঘটে থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ায় তারা ডিম পাড়ে না, সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চারা মায়ের দুধ পান করে বড় হয়।
তিমির বাচ্চার জন্ম ও লালন-পালন সম্পর্কে বিস্তারিত:
* সংখ্যা: ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে তিমি একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। জোড়া বাচ্চা প্রসবের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে মায়ের পক্ষে একসাথে দুই বাচ্চার পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
* গর্ভধারণকাল: প্রজাতির ওপর নির্ভর করে তিমির গর্ভধারণকাল ১০ থেকে ১৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে।
* বাচ্চা লালন-পালন: মা তিমি দীর্ঘদিন (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর বা তার বেশি) খুব যত্ন সহকারে বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করান এবং রক্ষা করেন।
* জন্মের আকার: জন্মের সময়ই তিমির বাচ্চা আকারে অনেক বড় হয়। যেমন—একটি নীল তিমির বাচ্চার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ থেকে ২৭ ফুটের মতো হতে পারে।
প্রজনন:
তিমি সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়ে বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। তবে প্রজাতিভেদে এই বয়সের তারতম্য দেখা যায়; যেমন নীল তিমি বা হাম্পব্যাক তিমির ক্ষেত্রে স্ত্রী তিমি ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সন্তান জন্মদানে সক্ষম হয়। বয়স এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন তথ্যের মধ্যে রয়েছে:
* প্রথম বাচ্চা: প্রজাতির ওপর নির্ভর করে স্ত্রী তিমি সাধারণত যৌন পরিপক্কতা অর্জনের পর প্রথম বাচ্চার জন্ম দেয়।
* গর্ভকাল: তিমির গর্ভধারণের সময়কাল প্রজাতি ভেদে ৯ থেকে ১৬ মাস (যেমন স্পার্ম তিমির ক্ষেত্রে প্রায় ১৮ মাস) পর্যন্ত হতে পারে।
* সন্তান সংখ্যা: একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী তিমি প্রতি ২ থেকে ৩ বছর অন্তর একটি করে বাচ্চার জন্ম দেয়।
তিমিরা বাচ্চা দেওয়ার ঠিক আগে নয়, বরং প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জোড়া বাঁধে। পুরুষ তিমিরা স্ত্রী তিমির মনোযোগ পেতে ও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে প্রতিযোগিতা করে এবং বিজয়ী পুরুষটির সাথে স্ত্রী তিমি পানির নিচে পেট-টু-পেট (belly-to-belly) বা পাশাপাশি অবস্থান করে মিলন সম্পন্ন করে। সঙ্গম ও বাচ্চা প্রজননের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
* সঙ্গীর সন্ধান: প্রজনন মৌসুমে পুরুষ তিমিরা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় (সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলে) জড়ো হয়ে দল (Competition Pod) তৈরি করে।
* আকর্ষণ ও প্রতিযোগিতা: পুরুষ তিমিরা একে অপরের সাথে লড়াই করে, লেজ বা পাখনা দিয়ে পানিতে শব্দ করে এবং মাথা দিয়ে ধাক্কা মেরে স্ত্রী তিমির দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে।
* তাড়া করার খেলা: স্ত্রী তিমি কখনও কখনও খুব দ্রুত সাঁতার কেটে এগিয়ে যায় এবং পুরুষ তিমিরা তার পিছু নেয়। শেষ পর্যন্ত যে পুরুষ তিমি সবচেয়ে বেশি শক্তি ও ক্ষিপ্রতা দেখাতে পারে, তার সাথেই স্ত্রী তিমি জোড়া বাঁধে।
* গর্ভধারণ কাল: সঙ্গমের পর স্ত্রী তিমি প্রায় ১১ থেকে ১২ মাস গর্ভে বাচ্চা ধারণ করে।
* বাচ্চা প্রসব: বাচ্চা দেওয়ার সময় মা তিমি উষ্ণ ও নিরাপদ এলাকায় চলে আসে। বাচ্চা লেজের দিক থেকে বের হয়ে আসে, যাতে জন্মের সময় মা তিমি বাচ্চাকে দ্রুত পানির ওপরের বাতাসে নিয়ে শ্বাস নিতে সাহায্য করতে পারে।
তিমিদের মধ্যে কোনো স্থায়ী বা আজীবন সঙ্গী (Monogamous) হওয়ার প্রথা নেই। সঙ্গমের পর পুরুষ তিমিরা চলে যায় এবং মা তিমি একাই তার বাচ্চাকে লালন-পালন ও বড় করে।
তিমির জগতে মা ও বাচ্চার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়। বেশিরভাগ তিমি প্রজাতিতে বাচ্চা লালন-পালনের পুরো দায়িত্ব মা একাই পালন করেন এবং বাবার সাথে বাচ্চাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। মা ও বাচ্চার সম্পর্ক এবং তিমি পরিবারের অন্যান্য বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
* মায়ের সাথে গভীর বন্ধন: জন্মের পর পরই মা তিমি তার বাচ্চাকে (যাকে ‘বাছুর’ বলা হয়) পানির উপরে তুলে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। বাচ্চা প্রায় ৬ থেকে ১২ মাস বা তার বেশি সময় পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে এবং মায়ের সাথেই থাকে। সাঁতার কাটার সময় বাচ্চা মায়ের ঠিক পাশ ঘেঁষে চলে, যাতে মায়ের তৈরি করা পানির স্রোত কাজে লাগিয়ে সে কম শক্তি খরচ করে সাঁতার কাটতে পারে।
* পিতার ভূমিকা: পুরুষ তিমির সাথে বাচ্চাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। তবে কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে পুরুষ তিমি মা ও বাচ্চাকে পাহারা দেয়, কিন্তু বাচ্চাদের লালন-পালনে তাদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না।
* অন্যান্য তিমি (Babysitters): অনেক সময় দলের অন্যান্য স্ত্রী তিমি ‘বেবিসিটার’ বা অভিভাবক হিসেবে মা তিমিকে বাচ্চা দেখাশোনার কাজে সাহায্য করে।
* আত্মরক্ষা ও শিক্ষা: মা তিমি তার বাচ্চাকে হাঙর বা অন্য শিকারী প্রাণীর আক্রমণ থেকে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রক্ষা করে। এছাড়া কীভাবে শিকার ধরতে হয় এবং পালে চলতে হয়, মা তিমি সেগুলো তার বাচ্চাকে শেখায়।
সমুদ্রে কোনো অসুস্থতা ও বিপদের সম্মুখীন হলে পুরুষ তিমির দেখভাল বা সাহায্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসক বা পাহারাদার থাকে না। তবে তিমি অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। বিপদে বা অসুস্থতায় তাদের নিজ দল বা পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে আসে। তিমির পরিবার যেভাবে সাহায্য করে:
* বাতাসে শ্বাস নেওয়া: তিমি যেহেতু স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাই মাঝে মাঝে তাদের পানির ওপরে উঠে শ্বাস নিতে হয়। অসুস্থ বা দুর্বল তিমি অনেক সময় পানির ওপরে উঠতে পারে না। তখন তার দলের অন্য সদস্যরা নিজেদের পিঠের ওপর তুলে তাকে পানির ওপরে ভাসিয়ে রাখে।
* সহযোগিতা ও সুরক্ষা: কোনো পুরুষ তিমি অসুস্থ হলে দলের সঙ্গীরা তার চারপাশে পাহারা দিয়ে রাখে। অন্য কোনো শিকারী প্রাণী (যেমন: হাঙর বা অর্কা) যেন আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য তারা দলবদ্ধভাবে তাকে রক্ষা করে।
* বিপদাপন্ন সঙ্গীর পাশে থাকা: গবেষণায় দেখা গেছে, অসুস্থ সঙ্গীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের অন্য তিমিরা তার আশেপাশে অবস্থান করে।
পাশাপাশি, তীরে ভেসে আসা বা জালে আটকা পড়া কোনো তিমি বিপদে পড়লে মানুষ (বিশেষ করে উপকূলীয় বন বিভাগ বা উদ্ধারকারী সংস্থা) তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে।
মা তিমি তার বাচ্চার অত্যন্ত যত্ন নেয় এবং জীবনের প্রথম কয়েক মাস তাদের ছায়ার মতো আগলে রাখে。পানিতে সন্তান প্রসবের পর মা তিমি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাচ্চাকে সাহায্য করে। মা তিমি যেভাবে তার বাচ্চার যত্ন নেয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
* প্রথম শ্বাস নিতে সাহায্য: জন্মের পরপরই মা তিমি তার বাচ্চাকে পানির উপরে ঠেলে তোলে, যাতে বাচ্চা তার জীবনের প্রথম শ্বাস নিতে পারে。
* অত্যন্ত পুষ্টিকর দুধ পান: তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী। পানির নিচে অন্য প্রাণীর মতো বাচ্চার পক্ষে সরাসরি দুধ টানা সম্ভব নয়। তাই মা তিমি নিজের শরীর থেকে ঘন ও আঠালো (প্রায় ৫০% ফ্যাটযুক্ত) দুধ সরাসরি পানিতে ছুড়ে মারে। এই দুধ পানিতে গলে যায় না, ফলে বাচ্চা তা অনায়াসে খেয়ে নিতে পারে。
* নিরাপত্তা ও দিকনির্দেশনা: বাচ্চা সাঁতার কাটা এবং শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে না শেখা পর্যন্ত মা তিমি তাকে নিজের শরীরের নিচে বা পাশে রেখে পাহারা দেয়。
* শব্দ করে শান্ত রাখা: মা তিমি ভিন্ন ধরনের শব্দ বা আওয়াজ করে তার বাচ্চাকে শান্ত রাখে এবং দিকনির্দেশনা দেয়。
* একটানা উপোস থাকা: বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত মা তিমি শিকার করা বা খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ রাখে এবং নিজের শরীরের চর্বি খরচ করে দুধ তৈরি করে।
তিমির বাছুর তার মাকে লালন-পালন বা যত্ন করে না; বরং মা তিমিই নিজের জীবন বাজি রেখে বছরের পর বছর বাছুরকে আগলে রাখে, দুধ পান করায় এবং শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে। উল্টো বাছুর তিমি মায়ের এই অসীম ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত সবসময় ছায়ার মতো মায়ের সাথে লেগে থাকে এবং মায়ের আচরণ অনুসরণ করে বেঁচে থাকার কৌশল শেখে। মা তিমির এই নিঃস্বার্থ যত্ন এবং বাছুরের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি বেশ চমকপ্রদ:
* দুধ পান করানো: তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ায় মা তিমি তার বাছুরকে দুধ খাওয়ায়। তিমির দুধে প্রায় ৪০-৫০% চর্বি থাকে যা আঠার মতো ঘন হওয়ায় পানিতে গলে যায় না। মা তিমি দুধ ছুঁড়ে দেয় এবং বাছুর তা খায়।
* নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: হাঙর বা অন্য কোনো শিকারি প্রাণী (যেমন: অর্কা বা খুনে তিমি) বাছুরের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে, মা তিমি বিশাল শরীর দিয়ে বাছুরকে ঢেকে রাখে এবং শত্রুকে প্রতিহত করে।
* অভিভাবকত্ব: জন্মের পর বাছুর একা সাঁতার কাটতে পারে না। মা তিমি নিজের পিঠে বা শরীরের সাথে আটকে রেখে বাছুরকে পানির উপরে তুলে শ্বাস নিতে সাহায্য করে এবং সাঁতার শেখায়।
* জীবনভর সঙ্গ: ছোটবেলায় মা বাছুরকে রক্ষা করলেও, বড় হওয়ার পরেও অনেক প্রজাতির তিমি (যেমন- স্পার্ম তিমি বা হাম্পব্যাক তিমি) তাদের মায়ের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। মায়ের সাথে তাদের সম্পর্ক আজীবন অটুট থাকে।
লেখক:
কৃষিবিদ প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন
(ডাবল ডক্টরেট, ডাবল মাস্টার্স, ট্টিপল ডিপ্লাোমা)
সাবেক ভিসি ও ট্রেজারার ইন চার্জ, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল মেন্বার, ডিরেক্টর রিসার্চ ও আইকিউএসি , ডিন, রেজিস্ট্রার, চেয়রাম্যান এবং কো-অর্ডিনেটর।
প্রতিষ্ঠাতা: প্রফেসর ডক্টর দেলোয়ার একাডেমি, ঢাকা।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক,
জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম,
কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ।
স্টাপ রিপোর্টার : ফজলুর রহমান খান (ঢাকা) 



















