ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করলেন পুলিশ সদস্য

  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 40

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক তরুণীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেছেন কনস্টেবল অমিত হাসান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকায় শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া তরুণীর বয়স ২৪ বছর। তিনি বিবাহিত এবং পরিবারের সঙ্গে শিমরাইলকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ওই তরুণী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ঘুরতে যাওয়া পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে গিয়ে তিনি তরুণীকে উদ্ধার করেন। একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর পাড়ে এনে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে রাতে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তারা দেখতে পান, এক তরুণী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধার করেন অমিত হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, তরুণী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

তরুণীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামে মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্য অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহ কিংবা স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকে ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সময় কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনের জীবন রক্ষা করায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরাও।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করলেন পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক তরুণীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেছেন কনস্টেবল অমিত হাসান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকায় শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া তরুণীর বয়স ২৪ বছর। তিনি বিবাহিত এবং পরিবারের সঙ্গে শিমরাইলকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ওই তরুণী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ঘুরতে যাওয়া পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে গিয়ে তিনি তরুণীকে উদ্ধার করেন। একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর পাড়ে এনে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে রাতে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তারা দেখতে পান, এক তরুণী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধার করেন অমিত হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, তরুণী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

তরুণীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামে মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্য অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহ কিংবা স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকে ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সময় কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনের জীবন রক্ষা করায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরাও।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে