ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের জাগরণেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ: কুড়িগ্রামে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রামে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কুড়িগ্রাম পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এবং সিভিল সার্জন ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, একটি পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎও ধ্বংস করে দেয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি বা মাদকসেবীর জন্য কোনো ধরনের ছাড় নেই। তরুণদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।”
সিভিল সার্জন ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “মাদকাসক্তি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মাদক মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।”
সভাপতির বক্তব্যে উপ-পরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার, পুলিশ, বিজিবি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তারুণ্য যদি জাগে, তবে মাদক সেবন আর নয়”,এই প্রত্যয় বাস্তবায়নে সমাজের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

তারুণ্যের জাগরণেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ: কুড়িগ্রামে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রামে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কুড়িগ্রাম পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এবং সিভিল সার্জন ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, একটি পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎও ধ্বংস করে দেয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি বা মাদকসেবীর জন্য কোনো ধরনের ছাড় নেই। তরুণদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।”
সিভিল সার্জন ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “মাদকাসক্তি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মাদক মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।”
সভাপতির বক্তব্যে উপ-পরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার, পুলিশ, বিজিবি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তারুণ্য যদি জাগে, তবে মাদক সেবন আর নয়”,এই প্রত্যয় বাস্তবায়নে সমাজের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।