রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৬নং কামারগাঁ ইউনিয়নের মালশিরা গ্রামে প্রায় ৩০ বছর ধরে জমি দখল, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বেলাল নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বাকি ৭ জন এখনো পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তার ১, পলাতক ৭
তানোর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নং আসামি বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ৭ আসামি হাসান, মোল্লা, মাসুদ, রানা, হিমেল, শাওন ও অপর ১ জন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৩০ বছর ধরে হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগী ৭টি পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে মালশিরা গ্রামে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তারা বিভিন্ন নিরীহ মানুষের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তদের অত্যাচারে মালশিরা গ্রামের একাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
পুলিশ-আদালত করতে নিঃস্ব
ভুক্তভোগী আমেনা বিবি বলেন, “আমাদের পৈতৃক জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ-আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিন্তু এখনো আমাদের জমি ফেরত পাইনি।”
মোমেনা বিবি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।
সাংবাদিককেও হয়রানির অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদের নামও নানা ঘটনায় জড়িয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়েও তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
যে জমি নিয়ে বিরোধ
ভুক্তভোগীদের দাবি, মৌজা নং ১৮৪, খতিয়ান নং ২১৯, দাগ নং ৯৬৩ এর ৭৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই জমিই অভিযুক্তরা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে মালশিরা গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীদের জমি উদ্ধার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, “বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ৩০ বছরের এই হয়রানির অবসান হবে।
রাজু আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী 



















