বর্ষা মৌসুমে দেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে প্রতিদিনই নতুন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪ হাজার ৮৪৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ সময়ে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ জন, খুলনায় ১৫৩ জন, বরিশালে ১০২ জন, চট্টগ্রামে ৯০ জন, রাজশাহীতে ৫৭ জন এবং ময়মনসিংহে ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর বিস্তার শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এর প্রকোপ বাড়ছে।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। ফুলের টব, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের সামগ্রী, নির্মাণাধীন ভবন ও নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানি এ মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই মশক নিধনের পাশাপাশি এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। রোগীর সংখ্যা বাড়ার অপেক্ষা না করে এখনই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ‘রোগী নয়, আগে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ’—এই নীতিতে কার্যকর পদক্ষেপই পারে ডেঙ্গুর বিস্তার ও প্রাণহানি কমাতে।
ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ: বর্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ
-
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ লিটন মিয়া - আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- 63
জনপ্রিয় সংবাদ




















