ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর আগের আলোচিত দলবদ্ধ শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ঠাকুরগাঁও সদরে প্রায় ১৫ বছর আগের একটি আলোচিত দলবদ্ধ শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
​আজ রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
​সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়
​আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়ার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে মো. আনিস রানা (৩৫), মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং ভোট কসাই এর ছেলে মো. দুলাল (৪৮)।
​যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে মো. আনিছুর (২৯), বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু (৩২) এবং বজলুর ছেলে মো. লালু (২৬)।
​আইনি ধারা ও অর্থদণ্ড
​আদালতের রায় অনুযায়ী, মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​অন্যদিকে, মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
​ঘটনার বিবরণ
​মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফিরছিল। পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছন থেকে কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অপর আসামিরা ধর্ষণে সরাসরি সহযোগিতা করে।
​একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এগিয়ে এলে আসামিরা তার কাপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বাবা বাড়িতে ছিলেন না। কয়েক দিন পর তিনি ফিরে এসে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
​এক আসামি পলাতক, সাজা কার্যকরের নির্দেশ
​দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে প্রায় ১৫ বছর পর আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।
​এদিকে, রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা বাকি পাঁচ আসামিকে সাজা ভোগের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর আগের আলোচিত দলবদ্ধ শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সদরে প্রায় ১৫ বছর আগের একটি আলোচিত দলবদ্ধ শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
​আজ রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
​সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়
​আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়ার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে মো. আনিস রানা (৩৫), মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং ভোট কসাই এর ছেলে মো. দুলাল (৪৮)।
​যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে মো. আনিছুর (২৯), বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু (৩২) এবং বজলুর ছেলে মো. লালু (২৬)।
​আইনি ধারা ও অর্থদণ্ড
​আদালতের রায় অনুযায়ী, মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​অন্যদিকে, মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
​ঘটনার বিবরণ
​মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফিরছিল। পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছন থেকে কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অপর আসামিরা ধর্ষণে সরাসরি সহযোগিতা করে।
​একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এগিয়ে এলে আসামিরা তার কাপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বাবা বাড়িতে ছিলেন না। কয়েক দিন পর তিনি ফিরে এসে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
​এক আসামি পলাতক, সাজা কার্যকরের নির্দেশ
​দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে প্রায় ১৫ বছর পর আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।
​এদিকে, রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা বাকি পাঁচ আসামিকে সাজা ভোগের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।