ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আবেদন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কোয়ার।
ওয়াশিংটন ডিসিতে গত সপ্তাহে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে এই পুরস্কার তুলে দেন ইনফান্তিনো।
শুধু তাই নয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রশংসা করে পোস্ট দেন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও যুক্তরাষ্ট্রের ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ফেয়ারস্কোয়ারের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার পর বিবিসি জানিয়েছে, চিঠিতে ইনফান্তিনো ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার চারটি সুস্পষ্ট নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘একজন বর্তমান রাজনৈতিক নেতাকে এমন ধরনের পুরস্কার দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতার দায়িত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘ফিফা সভাপতি এককভাবে সংস্থার নীতি, মূল্যবোধ বা কৌশলগত দিক নির্ধারণের অধিকার রাখেন না।
বিষয়টি নিয়ে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য সেই অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্প ছিলেন পাশাপাশি। একটি বড় স্বর্ণমণ্ডিত ট্রফির সঙ্গে ট্রাম্পকে একটি মেডেল ও সনদও দেন ইনফান্তিনো। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নেতার কাছ থেকে আমরা এমনটাই আশা করি।
জনাব প্রেসিডেন্ট, আপনি আমার সমর্থন সবসময় পাবেন।’
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, গত অক্টোবরে ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ট্রাম্প ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য’। নভেম্বরে মায়ামিতে আমেরিকান বিজনেস ফোরামের এক আলাপচারিতায় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার ট্রাম্পকে সমর্থন করা উচিত, কারণ তিনি যা করছেন, তা বেশ ভালোই দেখাচ্ছে।’
ফেয়ারস্কোয়ার আরো অভিযোগ তুলেছে, জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ইনফান্তিনোর পোস্ট করা একটি ভিডিও ‘ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রতি সরাসরি সমর্থন’ দেখায়।
সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নিকোলাস ম্যাকগীহান বলেন, ‘এ অভিযোগ শুধু ট্রাম্পকে সমর্থন করা নিয়ে নয়।
আরও বড় কথা হচ্ছে—ফিফার দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নিয়ে ইনফান্তিনো এমন সব কাজ করছেন, যা ফিফার নিয়মের পরিপন্থী এবং বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।’
ক্রীড়া ডেস্ক 

























