ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫নং (নবীনগর) আসনে ট্রাক প্রতীকের আলোচিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু ডিগবাজি দিয়ে হাতপাখা প্রতীকে মনোনয়ন সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা – সমালোচনা।
গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন – নৌকা থেকে ডিগবাজি দিয়ে ট্রাকে, ট্রাক থেকে ডিগবাজি দিয়ে হাতপাখায়। আবার কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তৎকালীন সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম নজু জানান, সিদ্ধান্তটি তিনি কারও অজান্তে নেননি। তিনি বলেন,এ বিষয়ে ভিপি নুরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার অনুমতি নিয়েই আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে জোট করায় আমি ২৫ ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে দলীয় প্রতীক হাতপাখায় মনোনয়ন সংগ্রহ করি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলা হচ্ছে সেগুলো সত্য নয়।আমি কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবীতে ছিলাম না। আমি প্রবাসে থাকতাম। এলাকার মানুষের অনুরোধে তখন আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট চেয়েছিলাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই বলেই যে কোনো মূল্যে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর শাখার সভাপতি বলেন, নজুর সঙ্গে আমাদের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। ২৫ ডিসেম্বর তাকে দলীয় প্রতীক হাতপাখায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর বিকেলে নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরকে হেলিকপ্টারে নিয়ে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন নজরুল ইসলাম নজু। ওই সমাবেশে ভিপি নুর হাত তুলে তাকে নবীনগরে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
একেরপর এক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও প্রতীক বদল নিয়ে চলমান এই বিতর্ক নবীনগরের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 



















