ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে টানা বর্ষণে হোয়াব্রাং প্লাবিত: আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ হাজারো ঘরবাড়ি পানির নিচে, চরম দুর্ভোগ

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিনভর রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণের ফলে ইউনিয়নের হোয়াব্রাং এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার খাল-নালা ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো উপচে পড়ে। পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি, যার ফলে পুরো এলাকা একপ্রকার মহাসড়কে পরিণত হয়। জলাবদ্ধতায় বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত এবং অসংখ্য মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
​মুজিব বর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোমরসমান পানি
​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোয়াব্রাং এলাকার নিম্নাঞ্চল এবং মুজিব বর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দুর্ভোগ এখন চরমে।
​সরেজমিনে জানা যায়, অনেক ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি জমে গেছে। ফলে রান্নাবান্না, ঘুমানো এমনকি স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপনও পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার ঘরের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
​ভুক্তভোগীদের আকুতি:
“প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। ঘরে খাবার নেই, নেই বিশুদ্ধ পানীয় জল। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।”
​দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট, স্থায়ী সমাধানের দাবি
​এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে পানিবন্দি পরিবারগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নোংরা ও উপচে পড়া পানির কারণে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
​ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছরের এই চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। তারা এই সংকটকালীন মুহূর্তে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও জরুরি সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

টেকনাফে টানা বর্ষণে হোয়াব্রাং প্লাবিত: আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ হাজারো ঘরবাড়ি পানির নিচে, চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিনভর রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণের ফলে ইউনিয়নের হোয়াব্রাং এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার খাল-নালা ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো উপচে পড়ে। পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি, যার ফলে পুরো এলাকা একপ্রকার মহাসড়কে পরিণত হয়। জলাবদ্ধতায় বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত এবং অসংখ্য মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
​মুজিব বর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোমরসমান পানি
​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোয়াব্রাং এলাকার নিম্নাঞ্চল এবং মুজিব বর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দুর্ভোগ এখন চরমে।
​সরেজমিনে জানা যায়, অনেক ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি জমে গেছে। ফলে রান্নাবান্না, ঘুমানো এমনকি স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপনও পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার ঘরের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
​ভুক্তভোগীদের আকুতি:
“প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। ঘরে খাবার নেই, নেই বিশুদ্ধ পানীয় জল। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।”
​দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট, স্থায়ী সমাধানের দাবি
​এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে পানিবন্দি পরিবারগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নোংরা ও উপচে পড়া পানির কারণে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
​ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছরের এই চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। তারা এই সংকটকালীন মুহূর্তে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও জরুরি সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।