ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে কৃষককে অপহরণের পর উল্টো পরিবারকে দফায় দফায় নির্যাতন, কাঠগড়ায় ইয়াবা কারবারি

 

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় এক সাধারণ কৃষককে অপহরণের পর তাঁর অসহায় পরিবারের ওপর দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অপহরণ ও বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​অপহরণের নেপথ্যে ইয়াবা কারবারির যোগসূত্র
​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার এক নিরীহ কৃষককে বেশ কিছুদিন আগে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে স্থানীয় একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই অপহরণের মূল হোতা এলাকার চিহ্নিত এক ইয়াবা কারবারি। মাদক চোরাচালান ও পাহাড়কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী চক্রের সাথে তার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। জমিসংক্রান্ত বিরোধ অথবা ইয়াবা পাচারের কোনো গোপন তথ্য জেনে যাওয়ার জের ধরে ওই কৃষককে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
​ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দফায় দফায় নির্যাতন
​সাধারণত অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়েই অপহরণকারীরা শান্ত থাকে। কিন্তু এই ঘটনায় ঘটেছে উল্টো চিত্র। অপহৃত কৃষককে গুম বা আটকে রাখার পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে ওই ইয়াবা কারবারির নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী।
​অপহৃত কৃষকের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন,
​”আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমরা যখন দিশেহারা, তখন ওই ইয়াবা কারবারি ও তার সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বাড়িঘরে এসে ভাঙচুর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে যাতে আমরা পুলিশ বা আইনের আশ্রয় না নিই।”
​ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী
​এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্র প্রকৃতির। ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা এবং অবৈধ অস্ত্রের পাহাড় গড়ে তুলেছে সে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ডেইলপাড়া এলাকায় এই মাদক কারবারির একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে, যারা রাতে পাহাড়ি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে।
​প্রশাসনের ভূমিকা ও উদ্ধার তৎপরতা
​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, টেকনাফের পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপহরণ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করছে। ডেইলপাড়ার এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অপহৃত কৃষককে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারি ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
​ভুক্তভোগী পরিবারটি ও ডেইলপাড়ার সাধারণ মানুষ এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
​প্রতিবেদন: দৈনিক বাংলা সংবাদ অনুসন্ধান ডেস্ক
​তারিখ: ১৬ জুলাই, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

টেকনাফে কৃষককে অপহরণের পর উল্টো পরিবারকে দফায় দফায় নির্যাতন, কাঠগড়ায় ইয়াবা কারবারি

আপডেট সময় : ০৬:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় এক সাধারণ কৃষককে অপহরণের পর তাঁর অসহায় পরিবারের ওপর দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অপহরণ ও বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​অপহরণের নেপথ্যে ইয়াবা কারবারির যোগসূত্র
​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার এক নিরীহ কৃষককে বেশ কিছুদিন আগে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে স্থানীয় একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই অপহরণের মূল হোতা এলাকার চিহ্নিত এক ইয়াবা কারবারি। মাদক চোরাচালান ও পাহাড়কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী চক্রের সাথে তার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। জমিসংক্রান্ত বিরোধ অথবা ইয়াবা পাচারের কোনো গোপন তথ্য জেনে যাওয়ার জের ধরে ওই কৃষককে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
​ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দফায় দফায় নির্যাতন
​সাধারণত অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়েই অপহরণকারীরা শান্ত থাকে। কিন্তু এই ঘটনায় ঘটেছে উল্টো চিত্র। অপহৃত কৃষককে গুম বা আটকে রাখার পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে ওই ইয়াবা কারবারির নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী।
​অপহৃত কৃষকের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন,
​”আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমরা যখন দিশেহারা, তখন ওই ইয়াবা কারবারি ও তার সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বাড়িঘরে এসে ভাঙচুর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে যাতে আমরা পুলিশ বা আইনের আশ্রয় না নিই।”
​ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী
​এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্র প্রকৃতির। ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা এবং অবৈধ অস্ত্রের পাহাড় গড়ে তুলেছে সে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ডেইলপাড়া এলাকায় এই মাদক কারবারির একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে, যারা রাতে পাহাড়ি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে।
​প্রশাসনের ভূমিকা ও উদ্ধার তৎপরতা
​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, টেকনাফের পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপহরণ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করছে। ডেইলপাড়ার এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অপহৃত কৃষককে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারি ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
​ভুক্তভোগী পরিবারটি ও ডেইলপাড়ার সাধারণ মানুষ এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
​প্রতিবেদন: দৈনিক বাংলা সংবাদ অনুসন্ধান ডেস্ক
​তারিখ: ১৬ জুলাই, ২০২৬