ঢাকা
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের পাহাড়ি জনপদে একের পর এক অপহরণ, নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, পুরানপাড়া, জাহাজপুরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ। একের পর এক কৃষক, কাঠুরিয়া ও শ্রমজীবী মানুষ অপহৃত হওয়ার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এবার রাজধানী ঢাকার রাজপথে নামেন এক সাহসী তরুণ।
গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টেকনাফের জাহাজপুরা এলাকার তরুণ সাইফুল ইসলাম জিহাদী একা ব্যানার হাতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। তাঁর প্রদর্শিত ব্যানারে লেখা রয়েছে— “টেকনাফে চলমান অপহরণ বন্ধের দাবিতে আমরণ অনশন।”
আতঙ্কে রাত কাটছে সীমান্ত জনপদে
অনশনস্থলে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম জিহাদী বলেন,
”টেকনাফের পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছে। সকালে ঘরে থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে কৃষক বা শ্রমিক নিরাপদে ফিরবেন কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত এক মাসেই বাহারছড়ার শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকা থেকে ৫ জন নিরপরাধ মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। টেকনাফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ স্থবির।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি সীমান্ত লাগোয়া এলাকার পরিস্থিতি দিন দিন বেসামাল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শামলাপুর পুরানপাড়ার বাসিন্দারা এতটাই আতঙ্কে আছেন যে, সন্ধ্যার পর অনেকেই ঘরে থাকতে পারছেন না; নিরাপত্তার তাগিদে রাতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাহাড়ের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এই তাণ্ডবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনমনে।
যৌথ অভিযানের জোর দাবি ও একাত্মতা
সাইফুল ইসলাম জিহাদী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, টেকনাফে অপহরণ বন্ধ, স্থানীয়দের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না দেখা পর্যন্ত তিনি এই অনশন চালিয়ে যাবেন।
ঢাকার রাজপথে টেকনাফের এক সাধারণ তরুণের এমন একক ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। দেশজুড়ে সচেতন নাগরিক ও টেকনাফের সর্বস্তরের মানুষ জিহাদীর এই সাহসিকতার প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের এখন একটাই আকুল আবেদন—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে সীমান্ত জনপদে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।
টেকনাফে প্রতিনিধি : মিসবাহ উল্লাহ 



















