ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের সাথে মাদক কারবারিদের গোলাগুলি: বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১, পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার

 

 

সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা টেকনাফের বাহারছড়ায় অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক সাহসী ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। রাতের অন্ধকারে পাহাড় ও আশপাশের আস্তানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে পুলিশ ও সশস্ত্র মাদক কারবারিদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলিসহ এক চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
​থানা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রতিবেশী সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাই পথে মাদকের এক বিশাল চালান বাহারছড়া উপকূল ও পাহাড়ী রুট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের ষড়যন্ত্র চলছিল। এমন গোপন ও নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস বিশেষ টিম বাহারছড়া সংলগ্ন কৌশলগত স্থানে কঠোর অবস্থান নেয়। পুলিশের অবস্থান টের পাওয়া মাত্রই পাহাড়ী আস্তানায় ওঁৎ পেতে থাকা সশস্ত্র কারবারিরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি বর্ষণ শুরু করে।
​আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পাল্টা গুলি ছুঁড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের তীব্র জবাবের মুখে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে অপরাধী চক্রটির অন্য সদস্যরা রাতের ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি গহীন অরণ্যে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক কয়েক হাজার পিস ইয়াবা, বেশ কিছু দেশীয় তৈরি এলজি ও তাজা কার্তুজসহ এক চিহ্নিত কুখ্যাত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
​ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি পুরোপুরি বহাল রয়েছে। বাহারছড়ার পাহাড় ও আশপাশের ঝোপঝাড়কে ব্যবহার করে তৈরি হওয়া সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সমগ্র অঞ্চলে চিড়ুনি অভিযান ও সাঁড়াশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি কঠোর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
​এদিকে বাহারছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চিরতরে ধ্বংস করে এলাকাটিকে স্থায়ীভাবে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান বহাল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের সাথে মাদক কারবারিদের গোলাগুলি: বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১, পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার

আপডেট সময় : ০৬:১৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

 

সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা টেকনাফের বাহারছড়ায় অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক সাহসী ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। রাতের অন্ধকারে পাহাড় ও আশপাশের আস্তানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে পুলিশ ও সশস্ত্র মাদক কারবারিদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলিসহ এক চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
​থানা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রতিবেশী সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাই পথে মাদকের এক বিশাল চালান বাহারছড়া উপকূল ও পাহাড়ী রুট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের ষড়যন্ত্র চলছিল। এমন গোপন ও নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস বিশেষ টিম বাহারছড়া সংলগ্ন কৌশলগত স্থানে কঠোর অবস্থান নেয়। পুলিশের অবস্থান টের পাওয়া মাত্রই পাহাড়ী আস্তানায় ওঁৎ পেতে থাকা সশস্ত্র কারবারিরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি বর্ষণ শুরু করে।
​আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পাল্টা গুলি ছুঁড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের তীব্র জবাবের মুখে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে অপরাধী চক্রটির অন্য সদস্যরা রাতের ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি গহীন অরণ্যে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক কয়েক হাজার পিস ইয়াবা, বেশ কিছু দেশীয় তৈরি এলজি ও তাজা কার্তুজসহ এক চিহ্নিত কুখ্যাত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
​ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি পুরোপুরি বহাল রয়েছে। বাহারছড়ার পাহাড় ও আশপাশের ঝোপঝাড়কে ব্যবহার করে তৈরি হওয়া সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সমগ্র অঞ্চলে চিড়ুনি অভিযান ও সাঁড়াশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি কঠোর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
​এদিকে বাহারছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চিরতরে ধ্বংস করে এলাকাটিকে স্থায়ীভাবে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান বহাল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।