টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ও কৃষির অন্যতম পরিচিত প্রতীক মধুপুরের আনারস। সুস্বাদু, রসালো ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে মধুপুরের আনারসের বিশেষ কদর। মৌসুম এলেই মধুপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আনারসের বাগানগুলোতে দেখা যায় কর্মচাঞ্চল্য। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সোনালি-হলুদ আভায় ফুটে ওঠা পাকা আনারস যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য।
মধুপুরের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে আনারস চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চাষিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছেন আনারসের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
আনারসের মৌসুমে মধুপুরের বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে বসে অস্থায়ী আনারসের হাট। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এসে কৃষকদের কাছ থেকে আনারস সংগ্রহ করেন। পরে এসব আনারস দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরের বাজারে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের কাছে আনারস শুধু একটি ফল নয়, এটি তাদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার অন্যতম মাধ্যম। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তবে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওঠানামা নিয়ে অনেক সময় কৃষকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
মধুপুরের আনারসের সুখ্যাতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সংরক্ষণব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের আনারস চাষ আরও লাভজনক ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।
টাঙ্গাইলের পরিচয় বহনকারী এই সুস্বাদু ফলকে ঘিরে মধুপুরের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছে, তেমনি দেশের ফলের বাজারেও তৈরি হচ্ছে আলাদা অবস্থান। তাই মধুপুরের আনারসকে বলা যায়—*টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, কৃষকের গর্ব এবং বাংলার মাটির অনন্য স্বাদ।*
*সুজন কুমার দাস ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: 



















