যশোর, ৪ জুলাই: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকার মানুষের সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শুনতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) আয়োজিত এ গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।
গণশুনানিতে এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিরসন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাদের এলাকার নানা সমস্যা, অভিযোগ, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা সংসদ সদস্যের সামনে তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে সেসব বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত ও দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি বলেন, জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে গণশুনানি একটি কার্যকর মাধ্যম। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কিংবা তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা অথবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় পরিচয় কোনো অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে পারে না। কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি উপস্থিত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি তাঁর নাম ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ গণশুনানির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা জনভোগান্তি নিরসন এবং স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবু রাসেল স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক বাংলার সংবাদ 



















