যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের দিগদানা গ্রামে দুর্বৃত্তদের ছোড়া চেতনানাশক স্প্রের ঘটনায় একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ আটজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে আনন্দ কুন্ডুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তারা ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই গভীর রাতে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আনন্দ কুন্ডুর বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রে বা রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয়। এতে ঘরে থাকা নারী ও দুই শিশুসহ আটজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পরিবারের কয়েকজন পুরুষ সদস্য পুরোপুরি অচেতন না হওয়ায় এবং সময়মতো বিষয়টি টের পাওয়ায় দুর্বৃত্তরা কোনো মালামাল চুরি করতে পারেনি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
বুধবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থরা হলেন— আনন্দ কুন্ডুর স্ত্রী উন্নতি কুন্ডু (৫০), দুই মেয়ে মনিমালা কুন্ডু (২০) ও রত্না কুন্ডু (৩০), রত্না কুন্ডুর ছয় মাস বয়সী ছেলে রহিত মিত্র, বিশ্বজিৎ কুন্ডুর মেয়ে জতি কুন্ডু (১৫), আনন্দ কুন্ডুর জামাতা সজিব মিত্র (২৯), সৌরভ কুন্ডুর স্ত্রী মুক্তা কুন্ডু (৩০) এবং তার ১০ মাস বয়সী কন্যা কুঞ্জা কুন্ডু।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশিক হাসিব জানান, অজ্ঞাত বিষক্রিয়ার (Unknown Poisoning) উপসর্গ নিয়ে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর দিগদানা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আবু রাসেল স্টাফ রিপোর্টার, যশোর প্রতিনিধি দৈনিক বাংলার সংবাদ 



















