ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে স্থবির রুমা: সিন্ডিকেটের কবলে পর্যটন ও জনজীবন

জ্বালানি সংকটে স্থবির রুমা: সিন্ডিকেটের কবলে পর্যটন ও জনজীবন

​পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা রুমা এখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে অকটেন ও পেট্রোল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে পর্যটকবাহী স্পিডবোট—সবই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটের কারণেই সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

​রুমার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। জ্বালানি তেলের অভাবে অধিকাংশ চালক তাদের বাইক বসিয়ে রেখেছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, “বেশি টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও তা সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।”

​রুমার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ রিজুক ঝরনা। অথচ গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে সেখানে পর্যটকবাহী কোনো স্পিডবোট যাতায়াত করতে পারছে না। অকটেন ও পেট্রোলের অভাব এবং আকাশচুম্বী দামের কারণে মাঝিরা বোট চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে করে পর্যটন মৌসুমে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই কৃত্রিম সংকটের পেছনে রুমার কয়েকজন খুচরা তেল বিক্রেতা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দায়ী। অভিযোগ উঠেছে যে, সিন্ডিকেট সদস্যরা তেল মজুত করে বাজারে ঘাটতি তৈরি করেছে। সুযোগ বুঝে তারা খুচরা পর্যায়ে কয়েক গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করে
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের কারণে আজ পুরো উপজেলা অচল। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

​পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন রুমার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আসন্ন দিনগুলোতে সংকট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তেলের বাজার মনিটর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবজির দাম চড়া, অস্থির ডিমের বাজার

জ্বালানি সংকটে স্থবির রুমা: সিন্ডিকেটের কবলে পর্যটন ও জনজীবন

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

​পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা রুমা এখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে অকটেন ও পেট্রোল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে পর্যটকবাহী স্পিডবোট—সবই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটের কারণেই সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

​রুমার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। জ্বালানি তেলের অভাবে অধিকাংশ চালক তাদের বাইক বসিয়ে রেখেছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, “বেশি টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও তা সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।”

​রুমার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ রিজুক ঝরনা। অথচ গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে সেখানে পর্যটকবাহী কোনো স্পিডবোট যাতায়াত করতে পারছে না। অকটেন ও পেট্রোলের অভাব এবং আকাশচুম্বী দামের কারণে মাঝিরা বোট চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে করে পর্যটন মৌসুমে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই কৃত্রিম সংকটের পেছনে রুমার কয়েকজন খুচরা তেল বিক্রেতা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দায়ী। অভিযোগ উঠেছে যে, সিন্ডিকেট সদস্যরা তেল মজুত করে বাজারে ঘাটতি তৈরি করেছে। সুযোগ বুঝে তারা খুচরা পর্যায়ে কয়েক গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করে
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের কারণে আজ পুরো উপজেলা অচল। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

​পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন রুমার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আসন্ন দিনগুলোতে সংকট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তেলের বাজার মনিটর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।