ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুসলিম লীগের সভা অনুষ্ঠিত

(৫ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর শাখার উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নগরের বহদ্দারহাটস্থ ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং-ইউসিটিসি কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি হটাৎ করে তৈরি হয়নি। এটা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ। এটা জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্ববোধেরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাই জুলাই শহীদদের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আহত ও শহীদ পরিবারের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী নাজমুল হাসান সেলিম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে ছিল একদল সচেতন শিক্ষার্থীর কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যের অবসান চেয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তা বিবেচনা না করে তাদের উপর চড়াও হওয়ায় দমননীতি আরোপ করায় পর্যায়ক্রমে তা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তখন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের নাতিপুতি আখ্যায়িত করে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারির নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, তখন শেখ হাসিনার দলীয় ক্যাডারসহ অনুগত পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কার্ফিউ বলবৎ করতে গিয়ে নির্বিচারে গুলি করে শত শত নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞে নারী-শিশুরাও বাদ পড়েনি। এতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়, অনেকের অঙ্গহানী হয় এবং পঙ্গু হয়ে যায়। ফলে আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে। একপর্যায়ে স্বৈরাচারী হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং হিন্দুস্থানের তাবেদার সরকারের দুঃশাসনকালের অবসান ঘটে।
দলের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনের সঞ্চালনায় মহানগর শাখার সভাপতি এস এম সিরাজুদ্দৌলাহ্ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাংবিধানিক পদগুলোর দলীয় স্বার্থে ব্যবহার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছেন। এগুলো পুনরায় দাঁড় করাতে অনেক শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন।
প্রধান আলোচক ছিলেন, ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ দীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিরাপদ করতে এবং এ দেশকে আধিপত্যবাদের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন যে নামেই বলা হোক, আটানব্বই পার্সন মুসলমানের এ দেশের সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ বাদ দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী অনুশাসনের রূপকল্প সংজোযন করতে হবে। মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্যের চর্চায় ইসলামী সংস্কৃতি ও পরিভাষাগুলো পাঠ্যপুস্তকে পুনরায় সংযোজন করতে হবে। বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বর্তমান ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সরকারকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তব্য রাখেন, দলের উত্তর জেলা সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক হাবিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা সভাপতি সমাজসেবী মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী সৈয়দ আনিসুর রহমান আমান, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা শাখার সভাপতি পীরযাদা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ গোলাম রসুল নঈমী, বিশিষ্ট লেখক মোহাম্মদ গোলাম নবী প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুসলিম লীগের সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

(৫ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর শাখার উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নগরের বহদ্দারহাটস্থ ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং-ইউসিটিসি কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি হটাৎ করে তৈরি হয়নি। এটা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ। এটা জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্ববোধেরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাই জুলাই শহীদদের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আহত ও শহীদ পরিবারের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী নাজমুল হাসান সেলিম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে ছিল একদল সচেতন শিক্ষার্থীর কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যের অবসান চেয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তা বিবেচনা না করে তাদের উপর চড়াও হওয়ায় দমননীতি আরোপ করায় পর্যায়ক্রমে তা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তখন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের নাতিপুতি আখ্যায়িত করে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারির নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, তখন শেখ হাসিনার দলীয় ক্যাডারসহ অনুগত পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কার্ফিউ বলবৎ করতে গিয়ে নির্বিচারে গুলি করে শত শত নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞে নারী-শিশুরাও বাদ পড়েনি। এতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়, অনেকের অঙ্গহানী হয় এবং পঙ্গু হয়ে যায়। ফলে আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে। একপর্যায়ে স্বৈরাচারী হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং হিন্দুস্থানের তাবেদার সরকারের দুঃশাসনকালের অবসান ঘটে।
দলের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনের সঞ্চালনায় মহানগর শাখার সভাপতি এস এম সিরাজুদ্দৌলাহ্ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাংবিধানিক পদগুলোর দলীয় স্বার্থে ব্যবহার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছেন। এগুলো পুনরায় দাঁড় করাতে অনেক শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন।
প্রধান আলোচক ছিলেন, ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ দীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিরাপদ করতে এবং এ দেশকে আধিপত্যবাদের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন যে নামেই বলা হোক, আটানব্বই পার্সন মুসলমানের এ দেশের সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ বাদ দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী অনুশাসনের রূপকল্প সংজোযন করতে হবে। মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্যের চর্চায় ইসলামী সংস্কৃতি ও পরিভাষাগুলো পাঠ্যপুস্তকে পুনরায় সংযোজন করতে হবে। বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বর্তমান ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সরকারকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তব্য রাখেন, দলের উত্তর জেলা সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক হাবিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা সভাপতি সমাজসেবী মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী সৈয়দ আনিসুর রহমান আমান, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা শাখার সভাপতি পীরযাদা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ গোলাম রসুল নঈমী, বিশিষ্ট লেখক মোহাম্মদ গোলাম নবী প্রমুখ।