ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 44

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া

জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলকে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এর আগে গুম করে শতাধিক মানুষ খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে।

বৃৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আজ জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে বক্তব্য তুলে ধরেন তার আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার। তারা বলেন, প্রসিকিশন আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন, তাতে তার সম্পৃক্তা থকা প্রমাণ করতে পারেনি। পরে তারা ট্রাইব্যুনালের কাছে জিয়াউলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

এরপর বক্তব্য রাখনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রসিকিশন আসামির বিরুদ্ধে ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত এবিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করে।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রথম অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজন বন্দিকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল।

দ্বিতীয় অভিযোগ বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদের মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট। গভীর রাতে ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো।

এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো।

এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া

আপডেট সময় : ১০:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলকে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এর আগে গুম করে শতাধিক মানুষ খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে।

বৃৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আজ জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে বক্তব্য তুলে ধরেন তার আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার। তারা বলেন, প্রসিকিশন আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন, তাতে তার সম্পৃক্তা থকা প্রমাণ করতে পারেনি। পরে তারা ট্রাইব্যুনালের কাছে জিয়াউলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

এরপর বক্তব্য রাখনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রসিকিশন আসামির বিরুদ্ধে ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত এবিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করে।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রথম অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজন বন্দিকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল।

দ্বিতীয় অভিযোগ বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদের মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট। গভীর রাতে ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো।

এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো।

এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।