ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক ও বিকাশ-নগদ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চক্রের মূলহোতা মোঃ ইকবাল এবং তার অন্যতম সহযোগী রুবেল। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম, ৮টি ব্যাংক চেক বই ও ৩টি ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল বিকালে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার এমএফএস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইল চালু হলে তিনি দেখেন তার ফোনে থাকা বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস উধাও হয়ে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ইউসিবি (UCB) ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিকাশ/নগদ নম্বরে স্থানান্তর করে নেয় চক্রটি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় তদন্তে নামে জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সত্যতা ও চক্রের সন্ধান মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তাদের জালিয়াতির প্রথম ধাপ ছিল ভুক্তভোগীদের Gmail ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। জিমেইল হ্যাক করার পর তারা ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাপে প্রবেশ করে টাকা সরিয়ে ফেলত।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আত্মসাৎকৃত এই অর্থ সহজে ট্রেস বা শনাক্ত না করার জন্য তারা একাধিক স্তরে টাকা লেনদেন (Money Laundering) করত। পরবর্তীতে সেই টাকা অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা হতো।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। মূলহোতা ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় এবং সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক ও বিকাশ-নগদ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২।

আপডেট সময় : ১০:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চক্রের মূলহোতা মোঃ ইকবাল এবং তার অন্যতম সহযোগী রুবেল। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম, ৮টি ব্যাংক চেক বই ও ৩টি ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল বিকালে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার এমএফএস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইল চালু হলে তিনি দেখেন তার ফোনে থাকা বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস উধাও হয়ে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ইউসিবি (UCB) ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিকাশ/নগদ নম্বরে স্থানান্তর করে নেয় চক্রটি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় তদন্তে নামে জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সত্যতা ও চক্রের সন্ধান মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তাদের জালিয়াতির প্রথম ধাপ ছিল ভুক্তভোগীদের Gmail ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। জিমেইল হ্যাক করার পর তারা ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাপে প্রবেশ করে টাকা সরিয়ে ফেলত।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আত্মসাৎকৃত এই অর্থ সহজে ট্রেস বা শনাক্ত না করার জন্য তারা একাধিক স্তরে টাকা লেনদেন (Money Laundering) করত। পরবর্তীতে সেই টাকা অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা হতো।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। মূলহোতা ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় এবং সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।