ঝালকাঠির রাজাপুরে বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় একটি আয়রন ব্রিজ ভেঙে তিন দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে রাজাপুর উপজেলার আরুয়া-সোনারগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া ও কাঁঠালিয়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে খেয়ায় পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
গত রবিবার সকালে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মীরেরহাট থেকে আরুয়া-সোনারগাঁও সংযোগ সড়কের জালবাড়ি খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজে একটি বালুবাহী জাহাজ ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় জাহাজ মালিক তার জাহাজটি সরিয়ে নিলেও ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় এখনো যান চলাচলসহ স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তুজ্জাফর আলী জানান, ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় ব্রিজটি পুরোপুরি ভেঙে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সল মিয়া বলেন, ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করতেন। এটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের চরম দুর্ভোগ বেড়েছে। কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। ছোট নৌকায় পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আসলাম হোসেন জানান, বালু আনা-নেওয়ার সময় বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষার্থী মো. সুমন জানায়, বর্তমানে জালবাড়ি খালে খেয়া দিয়ে সবাইকে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে জনপ্রতি ৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহাজটির মালিক বাদশা সিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যোগাযোগব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণে প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্রিজটির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মোঃ সিফাতুল্লাহ ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলার সংবাদ 



















