জামালপুর-ঢাকা রোডে চলাচলকারী রাজীব বাস সার্ভিসকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও যাত্রীবান্ধব করতে বাস মালিক, শ্রমিক, চালক এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক যৌথ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত এ পরামর্শ সভার আয়োজন করে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। সভায় রাজীব বাস সার্ভিসের বর্তমান অবস্থা, যাত্রীসেবার মান, সড়ক নিরাপত্তা এবং সার্ভিস পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি শহীদুল হক খান দুলালের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সাদিকুর রহমান হীরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব, জামালপুর বিআরটিএর পরিদর্শক মঞ্জিল হোসেন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ, বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী মোহন, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ হারুন, সদস্য আনোয়ার হোসেন শাহীন, ফিরোজ আহমেদ লাল, সুজন শেখসহ মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রাজীব বাস সার্ভিসকে শতভাগ সিটিং সার্ভিস হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন করা যাবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর কাউন্টার পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে হবে এবং জামালপুর রাজীব কাউন্টার থেকে মুক্তাগাছার ভাবকীর মোড় পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
যাত্রী নিরাপত্তা ও সার্ভিস মনিটরিংয়ের স্বার্থে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার এবং ডুয়েল ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারী যানবাহন চালানোর বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো চালক রাজীব বাস চালাতে পারবেন না বলেও জানানো হয়। কোনো চালক পরিবর্তন করা হলে তা মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নকে অবহিত করতে হবে।
সভায় যাত্রীদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে শ্রমিক ও স্টাফদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ২০১৬ সালের আগের মডেলের বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সার্ভিস থেকে প্রত্যাহার করে নতুন মডেলের বাস সংযুক্ত করার বিষয়েও পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বালুবাহী ট্রাক বা যানবাহন ফেরিঘাট এলাকা থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন, বাসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, গ্লাস ও সিট কাভার দ্রুত পরিবর্তন, টিকিট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে টোকেন ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, রাজীব বাসকে গেটলক সিটিং সার্ভিস হিসেবে পরিচালনা করতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় কোনো চালক মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে মালিক, শ্রমিক, স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হলে জামালপুর-ঢাকা রোডে রাজীব বাস সার্ভিস আরও নিরাপদ, মানসম্মত ও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে।
মোঃ গোলাম সরোয়ার প্রিন্স জামালপুর প্রতিনিধি: 



















