ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গ্রামীণ উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ, টেকসই পল্লী গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান

‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। র‍্যালির মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায়ভিত্তিক অর্থনীতি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (এমপি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদমান হোসেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো গ্রামীণ উন্নয়ন। গ্রাম সমৃদ্ধ হলে দেশও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সমবায় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. সাদমান হোসেন বলেন, টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। উন্নয়নের প্রতিটি কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈষম্যহীন উন্নয়ন বাস্তবায়ন সহজ হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি। কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ পল্লী গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তারা বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পল্লী উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সংগঠন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, সমবায় সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষক, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক, বৈষম্যহীন, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সবশেষে উপস্থিত সবাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের চেতনাকে ধারণ করে গ্রামীণ উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রকাশক: দৈনিক বাংলার সংবাদ
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মশিউর ইসলাম
তারিখ: ৬ জুলাই ২০২৬
মোবাইল: ০১৭৭৪৭০০৪৬০

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

গ্রামীণ উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ, টেকসই পল্লী গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান

‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। র‍্যালির মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায়ভিত্তিক অর্থনীতি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (এমপি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদমান হোসেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো গ্রামীণ উন্নয়ন। গ্রাম সমৃদ্ধ হলে দেশও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সমবায় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. সাদমান হোসেন বলেন, টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। উন্নয়নের প্রতিটি কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈষম্যহীন উন্নয়ন বাস্তবায়ন সহজ হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি। কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ পল্লী গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তারা বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পল্লী উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সংগঠন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, সমবায় সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষক, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক, বৈষম্যহীন, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সবশেষে উপস্থিত সবাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের চেতনাকে ধারণ করে গ্রামীণ উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রকাশক: দৈনিক বাংলার সংবাদ
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মশিউর ইসলাম
তারিখ: ৬ জুলাই ২০২৬
মোবাইল: ০১৭৭৪৭০০৪৬০