ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জের ধরে সংঘর্ষ ২ পক্ষের ৮ জন আহত

 

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানাইচ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পৃথক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বানাইচ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বানাইচ গ্রামের আব্দুস সালাম ফকির ও মোবারক আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

এ ঘটনায় মোবারক আলী জয়পুরহাট জেলা আদালতে মামলা করলে আদালত আব্দুস সালাম ফকিরের পক্ষে আদেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে মোবারক আলী আপিল করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ঘটনার দিন সকালে মোবারক আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে আব্দুস সালাম ফকির আদালতের রায়ের কপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের ৮ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে আব্দুস সালাম ফকির (৫০), সবুজ (৩৫), শাকিলা (৩৫) এবং অপর পক্ষের মোবারক আলী (৬০), বাদেশ আলী (৭৫), মিঠন (৩৩), স্বপন (৩৫), সেলিনা (৪৫) আহত হন।

আব্দুস সালাম ফকির অভিযোগ করে বলেন, আদালতের রায় তার পক্ষে থাকার পরও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে মোবারক আলী দাবি করেন, জমির সিএস, খাজনা ও খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের পক্ষে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মোবারক আলীকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে এবং মিঠনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।গ

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল জামান মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি চান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে আইনের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান হোক।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তাদুল আলম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি দেখেছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জের ধরে সংঘর্ষ ২ পক্ষের ৮ জন আহত

আপডেট সময় : ১২:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানাইচ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পৃথক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বানাইচ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বানাইচ গ্রামের আব্দুস সালাম ফকির ও মোবারক আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

এ ঘটনায় মোবারক আলী জয়পুরহাট জেলা আদালতে মামলা করলে আদালত আব্দুস সালাম ফকিরের পক্ষে আদেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে মোবারক আলী আপিল করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ঘটনার দিন সকালে মোবারক আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে আব্দুস সালাম ফকির আদালতের রায়ের কপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের ৮ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে আব্দুস সালাম ফকির (৫০), সবুজ (৩৫), শাকিলা (৩৫) এবং অপর পক্ষের মোবারক আলী (৬০), বাদেশ আলী (৭৫), মিঠন (৩৩), স্বপন (৩৫), সেলিনা (৪৫) আহত হন।

আব্দুস সালাম ফকির অভিযোগ করে বলেন, আদালতের রায় তার পক্ষে থাকার পরও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে মোবারক আলী দাবি করেন, জমির সিএস, খাজনা ও খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের পক্ষে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মোবারক আলীকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে এবং মিঠনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।গ

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল জামান মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি চান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে আইনের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান হোক।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তাদুল আলম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি দেখেছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।