ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে রাস্তা নয় যেন মরণ ফাঁদ প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের নাম কলকলিয়া-তেলিকোনা-চন্ডিডহর সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি নামলেই তলিয়ে যায় রাস্তা। মাঝেমধ্যেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে যাচ্ছে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা। আটকে পড়ছে প্রাইভেটকার ও মালবাহী কাভার্ডভ্যান। শিল্প এলাকা হওয়ায় কয়েক লাখ লোক প্রতিদিন দুর্ভোগকে সঙ্গী করে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সড়কটি মেরামতে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে কলকলিয়া-তেলিকোনা-চন্ডিডহর এলাকার সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির কলকলিয়া এলাকা থেকে চন্ডিডহর পর্যন্ত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় নিজের অজান্তেই অনেকে সেখানে পড়ে আহত হচ্ছেন। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জামা কাপড়সহ সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র। এরপর থেকে পুরো সড়কজুড়েই একই অবস্থা। সড়কটির সাদিপুর, জগদীশপুর সহ অন্তত ১৫-২০ জায়গায় একইরকম বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে বিপদজনক স্থানে বাঁশ দিয়ে চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এছাড়া ব্যস্ততম সড়কটির ভাঙা জায়গায় একপাশ থেকে গাড়ি আসলে অন্যপাশের গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় সৃষ্ট যানজট ও খানাখন্দে জমে থাকা জলজটের কারণে কর্মজীবী লোকজন সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারেন না।

সাদিপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দুঃখু হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি নিয়ে জনগণ চলাচল করলেও জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

পথচারী নুর আলম বলেন, কলকলিয়া তেলিকোনা চন্ডিডহর সড়কের সাদিপুর পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কে গর্তের কারণে অটোরিকশা উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় এক নারী আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং কাদা দিয়ে সারা শরীর মেখে যায়। এভাবে প্রতিদিনই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে

মোহাম্মদ গঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগ নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। গাড়িগুলো সড়কে আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে মালামাল আনতে কষ্ট হচ্ছে এছাড়াও লোকজন দোকানে আসতে না পারায় ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। সরকার যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাস্তাটি ঠিক করে দেয় তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম বলেন, কলকলিয়া চন্ডিডহর সড়কে জনসাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছ এই সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন এর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জগন্নাথপুরে রাস্তা নয় যেন মরণ ফাঁদ প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের নাম কলকলিয়া-তেলিকোনা-চন্ডিডহর সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি নামলেই তলিয়ে যায় রাস্তা। মাঝেমধ্যেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে যাচ্ছে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা। আটকে পড়ছে প্রাইভেটকার ও মালবাহী কাভার্ডভ্যান। শিল্প এলাকা হওয়ায় কয়েক লাখ লোক প্রতিদিন দুর্ভোগকে সঙ্গী করে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সড়কটি মেরামতে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে কলকলিয়া-তেলিকোনা-চন্ডিডহর এলাকার সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির কলকলিয়া এলাকা থেকে চন্ডিডহর পর্যন্ত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় নিজের অজান্তেই অনেকে সেখানে পড়ে আহত হচ্ছেন। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জামা কাপড়সহ সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র। এরপর থেকে পুরো সড়কজুড়েই একই অবস্থা। সড়কটির সাদিপুর, জগদীশপুর সহ অন্তত ১৫-২০ জায়গায় একইরকম বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে বিপদজনক স্থানে বাঁশ দিয়ে চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এছাড়া ব্যস্ততম সড়কটির ভাঙা জায়গায় একপাশ থেকে গাড়ি আসলে অন্যপাশের গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় সৃষ্ট যানজট ও খানাখন্দে জমে থাকা জলজটের কারণে কর্মজীবী লোকজন সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারেন না।

সাদিপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দুঃখু হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি নিয়ে জনগণ চলাচল করলেও জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

পথচারী নুর আলম বলেন, কলকলিয়া তেলিকোনা চন্ডিডহর সড়কের সাদিপুর পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কে গর্তের কারণে অটোরিকশা উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় এক নারী আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং কাদা দিয়ে সারা শরীর মেখে যায়। এভাবে প্রতিদিনই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে

মোহাম্মদ গঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগ নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। গাড়িগুলো সড়কে আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে মালামাল আনতে কষ্ট হচ্ছে এছাড়াও লোকজন দোকানে আসতে না পারায় ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। সরকার যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাস্তাটি ঠিক করে দেয় তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম বলেন, কলকলিয়া চন্ডিডহর সড়কে জনসাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছ এই সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন এর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।