ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারীতে শিশু আয়েশা হত্যা রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি দম্পতি গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের নিষ্পাপ শিশু আয়েশা সিদ্দিকার নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও শোক আর ক্ষোভ এখনো কাটেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী থানার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়েশা সিদ্দিকা (২) বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে উদ্বেগে পড়েন। পরে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন ১৮ এপ্রিল নিহত শিশুর পিতা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪(০৪)২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম-এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্তে নামে।
তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টার দিকে মাচাবান্ধা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী মোঃ রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। আসামিদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে খেলাধুলার সময় তাদের সন্তান আয়েশার চোখে কলম দিয়ে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে রেখে রাতে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে আসামিরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শিশু আয়েশার নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

চিলমারীতে শিশু আয়েশা হত্যা রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি দম্পতি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের নিষ্পাপ শিশু আয়েশা সিদ্দিকার নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও শোক আর ক্ষোভ এখনো কাটেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী থানার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়েশা সিদ্দিকা (২) বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে উদ্বেগে পড়েন। পরে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন ১৮ এপ্রিল নিহত শিশুর পিতা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪(০৪)২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম-এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্তে নামে।
তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টার দিকে মাচাবান্ধা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী মোঃ রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। আসামিদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে খেলাধুলার সময় তাদের সন্তান আয়েশার চোখে কলম দিয়ে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে রেখে রাতে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে আসামিরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শিশু আয়েশার নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।