ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিতলমারী আদর্শ শিশু বিদ্যা নিকেতন স্কুল গেটে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

 

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিতলমারী আদর্শ শিশু বিদ্যা নিকেতন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রধান ফটকের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাবের দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পথচারীদের।

দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের আশপাশে নিয়মিত প্রস্রাব করার কারণে সেখানে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও ছুটির সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওই স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ হওয়া উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। অথচ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথেই যদি দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা বিরাজ করে, তাহলে তা শিশুদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশ চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। তবে শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের আশপাশে যারা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উপযুক্ত স্থানে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত, প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ বিদ্যালয়ের গেটের আশপাশে প্রস্রাব না করে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়, চাই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ। কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

চিতলমারী আদর্শ শিশু বিদ্যা নিকেতন স্কুল গেটে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৩০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিতলমারী আদর্শ শিশু বিদ্যা নিকেতন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রধান ফটকের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাবের দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পথচারীদের।

দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের আশপাশে নিয়মিত প্রস্রাব করার কারণে সেখানে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও ছুটির সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওই স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ হওয়া উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। অথচ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথেই যদি দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা বিরাজ করে, তাহলে তা শিশুদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশ চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। তবে শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের আশপাশে যারা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উপযুক্ত স্থানে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত, প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ বিদ্যালয়ের গেটের আশপাশে প্রস্রাব না করে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়, চাই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ। কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।