ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁচড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় ধ্বংসের মুখে গ্রামের রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে

চাঁচড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় ধ্বংসের মুখে গ্রামের রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে ভেড়ি জমির মাটি কেটে বিক্রির কারণে গ্রামের রাস্তাঘাট ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলে রাস্তা খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

যেভাবে ধ্বংস হচ্ছে রাস্তা
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেঘলার বিল এলাকার ‘মোস্ত চেয়ারম্যানের ভেড়ি’ থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনায় বিক্রি করছে।

এর ফলে রাজাগঞ্জ সড়ক মাটির আস্তরণে ঢেকে নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে মোজো কারখানার পাশ দিয়ে ‘মোস্ত চেয়ারম্যানের ভেড়ি’ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে গভীর খানাখন্দ ও হাঁটু সমান কাদা জমেছে। মাটিবোঝাই ট্রাকের চাপে সড়ক ডেবে গেছে। ফলে ইজিবাইক ও ভ্যান পর্যন্ত কাদায় আটকে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

জনজীবন বিপর্যস্ত, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
সড়কের বেহাল দশায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আসমা বলেন, _আমরা ভ্যান চালিয়ে খাই। এই রাস্তার কারণে এখন ভ্যান নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পারি না। অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়।

একই এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, _“রাস্তার যে অবস্থা, ভ্যানে মালামাল নিয়ে বাড়ি পর্যন্ত ঢোকার কোনো উপায় নেই।

বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে বলে জানান লাবনী নামের আরেক বাসিন্দা। তিনি বলেন, _একটু বৃষ্টি হলেই আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। চলাচলের কোনো অবস্থাই নেই।

অদৃশ্য শক্তির’ অভিযোগ, অসহায় ভূমি অফিস
এই অবৈধ মাটি কাটার নেপথ্যে শহিদুল, কামরুল ও মাইনউদ্দিন নামে তিন ব্যক্তির সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এই অবস্থা।

বিষয়টি নিয়ে চাঁচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জানান, _আমরা কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করেছি। কিন্তু আমরা চলে আসার একদিন পরই তারা আবার শুরু করে। এদের থামানো যাচ্ছে না। মনে হয় এরা কোনো অদৃশ্য শক্তির জোরে কাজ করছে।

স্থায়ী বন্ধ ও সংস্কারের দাবি
ভূমি প্রশাসনের এই অসহায়ত্ব ও সিন্ডিকেটের দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

চাঁচড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় ধ্বংসের মুখে গ্রামের রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০১:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে ভেড়ি জমির মাটি কেটে বিক্রির কারণে গ্রামের রাস্তাঘাট ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলে রাস্তা খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

যেভাবে ধ্বংস হচ্ছে রাস্তা
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেঘলার বিল এলাকার ‘মোস্ত চেয়ারম্যানের ভেড়ি’ থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনায় বিক্রি করছে।

এর ফলে রাজাগঞ্জ সড়ক মাটির আস্তরণে ঢেকে নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে মোজো কারখানার পাশ দিয়ে ‘মোস্ত চেয়ারম্যানের ভেড়ি’ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে গভীর খানাখন্দ ও হাঁটু সমান কাদা জমেছে। মাটিবোঝাই ট্রাকের চাপে সড়ক ডেবে গেছে। ফলে ইজিবাইক ও ভ্যান পর্যন্ত কাদায় আটকে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

জনজীবন বিপর্যস্ত, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
সড়কের বেহাল দশায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আসমা বলেন, _আমরা ভ্যান চালিয়ে খাই। এই রাস্তার কারণে এখন ভ্যান নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পারি না। অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়।

একই এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, _“রাস্তার যে অবস্থা, ভ্যানে মালামাল নিয়ে বাড়ি পর্যন্ত ঢোকার কোনো উপায় নেই।

বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে বলে জানান লাবনী নামের আরেক বাসিন্দা। তিনি বলেন, _একটু বৃষ্টি হলেই আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। চলাচলের কোনো অবস্থাই নেই।

অদৃশ্য শক্তির’ অভিযোগ, অসহায় ভূমি অফিস
এই অবৈধ মাটি কাটার নেপথ্যে শহিদুল, কামরুল ও মাইনউদ্দিন নামে তিন ব্যক্তির সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এই অবস্থা।

বিষয়টি নিয়ে চাঁচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জানান, _আমরা কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করেছি। কিন্তু আমরা চলে আসার একদিন পরই তারা আবার শুরু করে। এদের থামানো যাচ্ছে না। মনে হয় এরা কোনো অদৃশ্য শক্তির জোরে কাজ করছে।

স্থায়ী বন্ধ ও সংস্কারের দাবি
ভূমি প্রশাসনের এই অসহায়ত্ব ও সিন্ডিকেটের দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।