চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বরাদ্দের দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ সিংহ চত্বর থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় এক সমাবেশ। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, ইমান আলী, রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, রোকসানা আক্তার রিক্তা, বিএম আবুল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, ইয়াসিন আলী, সাইফুল ইসলাম, বাদল, ইনসান আলী, আমিনুল ইসলাম কোদালকাটি, সাংবাদিক জাফর আহমেদসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষ এখনও উন্নয়নের মূলধারা থেকে বঞ্চিত। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অবকাঠামোগত সংকট চরবাসীর জীবনকে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চরাঞ্চলের জন্য কোনো সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। এ কারণে চরবাসীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে চরবাসীরাও নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অনেক মানুষ রাস্তার পাশে, বাঁধে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। নদীভাঙনকবলিত মানুষের সুরক্ষায় পৃথক ‘নদীভাঙন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের লাখো চরবাসী এখনও বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপদ যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নদীভাঙন শুধু মানুষের বসতভিটা নয়, তাদের স্বপ্ন ও জীবিকার ভিত্তিও ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, নদীশাসন ও নদীতীর সংরক্ষণে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আগত নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাঁরা চরবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। নেতারা ঘোষণা দেন, চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
I prefer this response
ChatGPT
Response 2
নিচে আপনার রিপোর্টটি নতুনভাবে সংবাদধর্মী, আরও পরিপাটি ও প্রফেশনাল ভাষায় সাজিয়ে দেওয়া হলো—
চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও পৃথক বাজেটের দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | ১৭ জুন ২০২৬
চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং চরবাসীর জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দসহ ১০ দফা দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ সিংহ চত্বর থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, ইমান আলী, রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, রোকসানা আক্তার রিক্তা, বিএম আবুল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, ইয়াসিন আলী, নুরুন্নবী সরকার, আব্দুল জলিল, সাইফুল ইসলাম বাদল, ইনসান আলী, আমিনুল ইসলাম কোদালকাটি, সাংবাদিক জাফর আহমেদসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দেশের চরাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষ এখনও উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চরাঞ্চলের জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। এ অবস্থায় চরবাসীর অধিকার নিশ্চিত করতে একটি পৃথক চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে চরবাসীরাও নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অনেকেই বছরের পর বছর রাস্তার পাশে, বাঁধে কিংবা অন্যের জমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনার পাশাপাশি নদীভাঙনকবলিত মানুষের অধিকার সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়ন জরুরি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের লাখো চরবাসী এখনও বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। নদীভাঙন শুধু বসতভিটা নয়, মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকার ভিত্তিও ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।
স্মারকলিপিতে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, নদীশাসন ও নদীতীর সংরক্ষণে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আগত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা চরবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। নেতারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 



















