ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ১৫ লাখ টাকার চোরাই মাল উদ্ধার, আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় একটি ব্যাটারি ও আইপিএসের দোকানে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ৩২টি আইপিএস ও ৩৭টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাত ১১টার দিকে আগ্রাবাদ হাজীপাড়া এক্সেস রোডের ‘হাজী ব্যাটারী হাউস’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে বাসায় যান দোকানটির মালিক মো. শামীম হোসেন (২৯)। পরদিন ভোর ৫টার দিকে পাশের সাউথ ইস্ট ব্যাংকের দারোয়ান গুলজার তাকে ফোন করে দোকানের তালা, শাটার ও গ্লাস ভেঙে চুরির ঘটনা জানান।

খবর পেয়ে দোকানে গিয়ে শামীম হোসেন দেখতে পান, দোকানের ভেতরে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির নতুন ও পুরোনো ৬৩টি ব্যাটারি এবং ৩২টি আইপিএস চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় তিনি ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার পর ডবলমুরিং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ ফয়সলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তদন্তে নামে। প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের অভিযানে গত ২৮ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে মো. ফরিদ (২৭) ও মো. ফয়সাল (২৭) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা ১১টার দিকে গুলশান মডেল থানাধীন ২৪ নম্বর রোড এলাকা থেকে মো. সোহাগ (৪১) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পুলিশের সহায়তায় একই দিন বেলা সাড়ে ২টার দিকে কাঁচপুর এলাকা থেকে মো. শাহীন আলম (৪৮) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, শাহীন আলমের দেখানো মতে কাঁচপুর বাজারের সিয়াম মটরস অ্যান্ড টায়ার নামের দোকানসংলগ্ন গোডাউন থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৩২টি আইপিএস ও ২৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৩টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

সব মিলিয়ে অভিযানে চুরি হওয়া ৩২টি আইপিএস এবং ৩৭টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযানে ডবলমুরিং মডেল থানার এসআই ইমান হোসাইন, এসআই কাজী আবিদ হোসেন, এসআই তারেকুল ইসলাম, এএসআই কাজী সাইফুল ইসলাম ও এএসআই মেহেদী হাসানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

চট্টগ্রামে ১৫ লাখ টাকার চোরাই মাল উদ্ধার, আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:৫২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় একটি ব্যাটারি ও আইপিএসের দোকানে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ৩২টি আইপিএস ও ৩৭টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাত ১১টার দিকে আগ্রাবাদ হাজীপাড়া এক্সেস রোডের ‘হাজী ব্যাটারী হাউস’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে বাসায় যান দোকানটির মালিক মো. শামীম হোসেন (২৯)। পরদিন ভোর ৫টার দিকে পাশের সাউথ ইস্ট ব্যাংকের দারোয়ান গুলজার তাকে ফোন করে দোকানের তালা, শাটার ও গ্লাস ভেঙে চুরির ঘটনা জানান।

খবর পেয়ে দোকানে গিয়ে শামীম হোসেন দেখতে পান, দোকানের ভেতরে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির নতুন ও পুরোনো ৬৩টি ব্যাটারি এবং ৩২টি আইপিএস চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় তিনি ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার পর ডবলমুরিং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ ফয়সলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তদন্তে নামে। প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের অভিযানে গত ২৮ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে মো. ফরিদ (২৭) ও মো. ফয়সাল (২৭) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা ১১টার দিকে গুলশান মডেল থানাধীন ২৪ নম্বর রোড এলাকা থেকে মো. সোহাগ (৪১) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পুলিশের সহায়তায় একই দিন বেলা সাড়ে ২টার দিকে কাঁচপুর এলাকা থেকে মো. শাহীন আলম (৪৮) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, শাহীন আলমের দেখানো মতে কাঁচপুর বাজারের সিয়াম মটরস অ্যান্ড টায়ার নামের দোকানসংলগ্ন গোডাউন থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৩২টি আইপিএস ও ২৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৩টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

সব মিলিয়ে অভিযানে চুরি হওয়া ৩২টি আইপিএস এবং ৩৭টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযানে ডবলমুরিং মডেল থানার এসআই ইমান হোসাইন, এসআই কাজী আবিদ হোসেন, এসআই তারেকুল ইসলাম, এএসআই কাজী সাইফুল ইসলাম ও এএসআই মেহেদী হাসানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।