আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসসংকটের কারণে দেশের মানুষ যে কষ্ট ভোগ করছে, বিশেষ করে গৃহস্থালি পর্যায়ে নারী, শিল্প খাতের উদ্যোক্তা এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা যে দুর্ভোগে পড়েছেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের গ্যাসের চাহিদা দুটি উৎস থেকে পূরণ করা হয়। এর একটি হলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস। অন্যটি আমদানি করা এলএনজি, যা এফএসআরইউর মাধ্যমে রিগ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ সকালে এক্সিলারেট এনার্জির এ অঞ্চলের প্রধান কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সমস্যাগুলো ও সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও বিষয়টি উপলব্ধি করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রুটিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখান থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে সংকট নিরসনে তার এবং তার দেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা করা সম্ভব, তা তিনি সংশ্লিষ্ট টিম ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জানাবেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ চলছে। তবে সহযোগিতা শুধু এলএনজি আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও অন্যান্য সম্পদ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট সমাধানে বিভিন্ন বিকল্প উৎস নিয়ে সরকার কাজ করছে। হাতে যত বেশি বিকল্প থাকবে, কোনো একটি উৎসে সমস্যা দেখা দিলে অন্য উৎস থেকে ঘাটতি পূরণ করা সহজ হবে। বর্তমানে বিকল্পের সংখ্যা কম থাকায় একটি এফএসআরইউতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় পুরো দেশকে সংকটে পড়তে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এফএসআরইউনির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই মূল সমাধান। এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে এনার্জি কোঅপারেশন বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সহযোগিতার সুফল কবে পাওয়া যাবে—এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতার ধরন ও সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই তা বলা সম্ভব হবে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘মানুষের এই সমস্যা ও কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিচ্ছে। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের কষ্ট নিরসনের জন্য। তাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন।’
অনলাইন ডেস্ক 

























