ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ৬ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিয়ে টানা ছয় দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত জয় কুন্ডু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
​ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী (১৪) ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী।
​ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে রাতে ওই মাদ্রাসাছাত্রী বসতঘরের বাইরে প্রাতঃকৃত্য সারতে বের হলে ওত পেতে থাকা একদল বখাটে তার মুখে কালো কাপড় বেঁধে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কোড়ামারি গ্রামের একটি নির্জন ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা ৬ দিন তাকে জিম্মি করে অভিযুক্তরা পর্যায়ক্রমে জোরপূর্বক গণধর্ষণ চালায়।
​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্যাতিতা মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, রাতে বাইরে বের হওয়া মাত্রই জয় কুন্ডু, সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডল তার মুখে কালো কাপড় চেপে ধরে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চেতনা ফিরলে সে নিজেকে একটি অজানা ঘরের ভেতর বন্দি অবস্থায় দেখতে পায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে আসামিরা টানা ছয় দিন ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়।
​অভিযুক্তদের পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জয় কুন্ডু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) হিসেবে বিভিন্ন হাট-বাজার ও দোকানে পণ্য সরবরাহের কাজ করতেন। অভিযুক্ত জয় কুন্ডু, সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডল—সবার বাড়ি আলফাডাঙ্গার বোয়ালমারী/গুনবাহা এলাকায় বলে জানা গেছে।
​এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জয় কুন্ডুকে আলফাডাঙ্গায় আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দি ও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্যাতিতা ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই অভিযুক্ত সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডলসহ সহায়তাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

গোপালগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ৬ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিয়ে টানা ছয় দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত জয় কুন্ডু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
​ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী (১৪) ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী।
​ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে রাতে ওই মাদ্রাসাছাত্রী বসতঘরের বাইরে প্রাতঃকৃত্য সারতে বের হলে ওত পেতে থাকা একদল বখাটে তার মুখে কালো কাপড় বেঁধে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কোড়ামারি গ্রামের একটি নির্জন ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা ৬ দিন তাকে জিম্মি করে অভিযুক্তরা পর্যায়ক্রমে জোরপূর্বক গণধর্ষণ চালায়।
​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্যাতিতা মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, রাতে বাইরে বের হওয়া মাত্রই জয় কুন্ডু, সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডল তার মুখে কালো কাপড় চেপে ধরে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চেতনা ফিরলে সে নিজেকে একটি অজানা ঘরের ভেতর বন্দি অবস্থায় দেখতে পায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে আসামিরা টানা ছয় দিন ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়।
​অভিযুক্তদের পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জয় কুন্ডু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) হিসেবে বিভিন্ন হাট-বাজার ও দোকানে পণ্য সরবরাহের কাজ করতেন। অভিযুক্ত জয় কুন্ডু, সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডল—সবার বাড়ি আলফাডাঙ্গার বোয়ালমারী/গুনবাহা এলাকায় বলে জানা গেছে।
​এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জয় কুন্ডুকে আলফাডাঙ্গায় আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দি ও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্যাতিতা ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই অভিযুক্ত সাজ্জাদ শেখ ও সৌরভ মন্ডলসহ সহায়তাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।