গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর বনাঞ্চল থেকে অন্তত ১২টি ঘোড়ার বিচ্ছিন্ন মাথা, চামড়া, পা ও নাড়িভুঁড়িসহ হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে কোনো অজ্ঞাত চক্র ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার সকালে উপজেলার কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন বরমী ও গোসিংগা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুদিপাড়া এলাকার বনাঞ্চল থেকে এসব অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বনের ভেতর ঘাস কাটতে গিয়ে কয়েকজন কৃষক প্রথম ঘোড়ার দেহাংশগুলো দেখতে পান। খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে। সড়ক থেকে বনের দিকে চলে যাওয়া একটি মেঠোপথের দুই পাশে ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও হাড় ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে ছিল। আলামত দেখে স্পষ্ট যে, রাতের আঁধারে ঘোড়াগুলো জবাই করে শুধু মাংস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন প্রধান বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে ১০ থেকে ১২টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। সকালে স্থানীয় কৃষকদের কাছে খবর পেয়ে আমি দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানাই।”
ঘটনাটি নিশ্চিত করে শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন জানান, “ঘটনাস্থলটি নিকটস্থ লোকালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় অবস্থিত। সেখান থেকে ১২টি ঘোড়ার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এটি কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাজ। এই মাংস কোথায় সরবরাহ বা বিক্রি করা হচ্ছে, তা সনাক্তে আমরা কাজ করছি। উদ্ধারকৃত অবশিষ্টাংশ মাটিতে পুতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চক্রটিকে চিহ্নিত করতে আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাব্বির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার: 



















