একজন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমি কৃষক ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জমিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করেন, কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা কৃষক না বুঝলেও কোম্পানি ঠিকই বোঝে কোম্পানি তার ব্যাবসা কিভাবে লাভবান হতে হবে তারই ফসল ঘরে তুলে নিচ্ছে মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেড। কৃষককে বোকা বানিয়ে কোম্পানির বিভিন্ন ভেজাল পন্য বাজারজাত করে চলেছে মিমপেক্স কোম্পানির মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু অফিসাররা। সঠিক মাত্রার রাসায়নিকের বিষক্রিয়া হয় বিধায় এগুলো একধরনের বিষও বলা হয়। অথচ এই বিষয়েও নেই প্রয়োজনীয় বিষ। এই সব রাসায়নিক দ্রব্য যে উপাদান গুলো থাকার কথা তার অনেক কিছুই নেই এই মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেড কোম্পানির। মূল উপাদানের পরিবর্তে গন্ধ যুক্ত রং, পানি তৈল কিংবা গুড়া অথবা কি দিয়ে এইসব রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন সঠিক ভাবে বলতে পারবে। অথচ এই সব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য দেদারসে উৎপাদন করে কৃষকের কাছে বিক্রি করছে মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেডের কোম্পানির নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারগন। কৃষকরা এসব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য জমিতে ব্যাবহার করায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা। দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সর্বোপরি ভেজাল কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যাবহার করে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উং দেশের বিভিন্ন জেলার একেবারে মাঠ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাসায়নিকের স্যাম্পুল সংগ্রহ করে পরিক্ষাগারে পিজিআর ( প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর) টেস্ট করে ল্যাব টেস্টে যে ফলাফল এসেছে তাতে রীতিমতো গা- শিউরে উঠার মত অবস্থা। এতে দেখা গেছে নামি-দামি অনেক প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর এসব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। এর মধ্যে বেশী মাত্রার ভেজাল পাওয়া গেছে সৈয়দুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেড এর রাসায়নিকে। এ প্রতিষ্ঠানের হিউমিক অ্যাসিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা করে দেখা গেছে প্রয়োজনীয় উপকরন থাকার কথা ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ অথচ পাওয়া গেছে মাত্র ০.০৪ শতাংশ অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিকের ৯৯ ভাগই ভেজাল। সাধারন কৃষকের মতামত কোম্পানি এসব রাসায়নিকে তারা প্রয়োজনীয় উপাদান না দিয়ে আসলে কি দিয়েছে সেটি তারা ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। তাই এসব রাসায়নিক দেশের পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর এ ছাড়া দেশের কৃষক আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে। এবং ভেজাল রাসায়নিক ব্যাবহারে কৃষক নানা রকম রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। কৃষকরা মনে করে অচীরেই এই কৃষক ঠকানো মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা উচিৎ। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মিমপেক্স কোম্পানির ডিলারদের কাছে বিষয়েও বিষ নেই এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ডিলার অভিযোগ করে বলেন এখানে আমাদের কিছুই করার নেই কোম্পানি আমাদের যেমন পন্য দেয় আমারা সেগুলোই বাজারজাত করি। তাদের আরও অভিযোগ কোম্পানির কিছু অসাধু অফিসাররা জেনে শুনে মোটা অংকের বেতনের বিনিময়ে আমাদেরকে ভেজাল পন্য দিয়ে যায়, আমরা বার বার অভিযোগ করেও এর কোন সূরাহা পাই নাই। কৃষকদের অভিমত গাংনী উপজেলার কৃষি অফিসারদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ এবং কোথায় কোথায় মিমপেক্স কোম্পানির ডিলাররা এসব ভেজাল পন্য বাজারজাত করে তা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
গাংনীতে বিষেও বিষ নেই মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যালে
-
মোঃ মামুনুর রশীদ(জেলা প্রতিনিধি) - আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 43
জনপ্রিয় সংবাদ




















