চব্বিশের রক্তঝরা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতীক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় গণভবন প্রাঙ্গণে এ জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বৈরাচারী শাসনের দেড় দশকের প্রতীক গণভবনটি চব্বিশের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। এবার সেই স্থানটিকেই রূপ দেওয়া হলো অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, সংগৃহীত নিদর্শন, আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল ও শহীদদের ব্যবহৃত স্মারকসমূহ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও সংরক্ষিত নিদর্শনের ইতিহাস প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং জাইমা রহমানসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
দর্শনসূচি ও টিকিট সংক্রান্ত তথ্য:
৫ আগস্ট (উদ্বোধনের দিন): সর্বসাধারণের প্রবেশ সংরক্ষিত রেখে কেবল শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
৬ আগস্ট থেকে: সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
প্রবেশ মূল্য:
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য টিকিট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
নানা আইনি ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হওয়া এই জাদুঘরটি নতুন প্রজন্মের কাছে চব্বিশের বীরত্বগাথা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অমর দলিল হিসেবে টিকে থাকবে।
আলফাত হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট 

























