ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায়  বাড়ি দখলের চেষ্টা ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, আতঙ্কে দুই শিশুসহ তিন নারী

 

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া ময়ূরী খালপাড় এলাকায় এক  পরিবারের বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা পরিচয়ে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িটি দখল করতে ব্যর্থ হয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে দুই শিশুসহ তিন নারী দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

অবরুদ্ধদের মধ্যে ছিলেন জোসনা মন্ডল (৩৮), তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে উপমা মন্ডল এবং দেবব্রত মণ্ডলের ১১ বছর বয়সী মেয়ে দেবশ্রী মন্ডল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবব্রত মণ্ডল (দেবু) বৈধভাবে জমি কিনে সেখানে একটি একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তবে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হওয়ায় ভীত হয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ। বাকি ৮ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে থাকা জোসনা মন্ডল ও দুই শিশু নিরাপত্তার জন্য দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছাদ দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা মূল গেটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে চলে যায়। এতে তিনজন দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

অবরুদ্ধ অবস্থায় জোসনা মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের বাঁচান, ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে আছি। যেকোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে।”

তিনি জানান, তার মা অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। সেখান থেকে খাবার আনতে এসে তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। ঠিক তখনই হামলার ঘটনা ঘটে।

দেবব্রত মণ্ডলের স্ত্রী তৃপ্তি বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, “অনেক কষ্ট করে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এই বাড়ি তৈরি করেছিলাম। আমাদের সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও চাঁদা দাবি করে আমাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়েটা তখনও বাড়ির ভেতরে আটকে ছিল। আমরা জানি না ওকে আর দেখতে পারব কিনা। আমরা সংখ্যালঘু বলে কি আমাদের বিচার হবে না?”

ঘটনার খবর পেয়ে জোসনা মন্ডলের বড় বোন স্বপ্ন সানা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখেন, বাড়ির মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বৃষ্টির মধ্যেই তিনি উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাইরে অপেক্ষা করেন।

দেবব্রত মণ্ডল বলেন, “তিলে তিলে জমানো অর্থ দিয়ে জমি কিনে বাড়ি করেছি। সব কাগজপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। আমি হিন্দু বলেই হয়তো কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমার পরিবারকে হত্যা ও দেশছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর ইসলাম বলেন, অভিযোগটি মূলত জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ঘরের ভেতরে যারা ছিলেন, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই অবস্থান করছিলেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

খুলনায়  বাড়ি দখলের চেষ্টা ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, আতঙ্কে দুই শিশুসহ তিন নারী

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

 

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া ময়ূরী খালপাড় এলাকায় এক  পরিবারের বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা পরিচয়ে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িটি দখল করতে ব্যর্থ হয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে দুই শিশুসহ তিন নারী দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

অবরুদ্ধদের মধ্যে ছিলেন জোসনা মন্ডল (৩৮), তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে উপমা মন্ডল এবং দেবব্রত মণ্ডলের ১১ বছর বয়সী মেয়ে দেবশ্রী মন্ডল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবব্রত মণ্ডল (দেবু) বৈধভাবে জমি কিনে সেখানে একটি একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তবে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হওয়ায় ভীত হয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ। বাকি ৮ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে থাকা জোসনা মন্ডল ও দুই শিশু নিরাপত্তার জন্য দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছাদ দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা মূল গেটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে চলে যায়। এতে তিনজন দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

অবরুদ্ধ অবস্থায় জোসনা মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের বাঁচান, ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে আছি। যেকোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে।”

তিনি জানান, তার মা অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। সেখান থেকে খাবার আনতে এসে তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। ঠিক তখনই হামলার ঘটনা ঘটে।

দেবব্রত মণ্ডলের স্ত্রী তৃপ্তি বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, “অনেক কষ্ট করে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এই বাড়ি তৈরি করেছিলাম। আমাদের সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও চাঁদা দাবি করে আমাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়েটা তখনও বাড়ির ভেতরে আটকে ছিল। আমরা জানি না ওকে আর দেখতে পারব কিনা। আমরা সংখ্যালঘু বলে কি আমাদের বিচার হবে না?”

ঘটনার খবর পেয়ে জোসনা মন্ডলের বড় বোন স্বপ্ন সানা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখেন, বাড়ির মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বৃষ্টির মধ্যেই তিনি উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাইরে অপেক্ষা করেন।

দেবব্রত মণ্ডল বলেন, “তিলে তিলে জমানো অর্থ দিয়ে জমি কিনে বাড়ি করেছি। সব কাগজপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। আমি হিন্দু বলেই হয়তো কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমার পরিবারকে হত্যা ও দেশছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর ইসলাম বলেন, অভিযোগটি মূলত জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ঘরের ভেতরে যারা ছিলেন, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই অবস্থান করছিলেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।