ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় পোস্টিং হলেও পটুয়াখালীতে সার্ভেয়ার কমলের একক রাজত্ব: এলএ কেসে ৪ কোটির জালিয়াতি ও আপত্তি উপেক্ষা করে ২ কোটি ৩ লাখ চেক ছাড়।

খুলনায় পোস্টিং হলেও পটুয়াখালীতে সার্ভেয়ার কমলের একক রাজত্ব: এলএ কেসে ৪ কোটির জালিয়াতি ও আপত্তি উপেক্ষা করে ২ কোটি ৩ লাখ চেক ছাড়।

দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব,,,

মূল পোস্টিং খুলনা বিভাগে হলেও প্রেষণের (ডেপুটেশন) সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীতে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ। তার বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ভুয়া খতিয়ানে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং একটি শক্তিশালী কমিশন বাণিজ্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটুয়াখালীর এলএ কেস নং-১৬/২০১৭-২০১৮ (মৌজা: চর বলিয়াতলী) এর আওতায় প্রায় ৪ কোটি টাকার সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি ভুয়া এবং নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে দেখিয়ে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ ও তার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফারুকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঢাকা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।শুধু তাই নয়, পটুয়াখালীর আরেকটি প্রকল্পে আইনি ও প্রক্রিয়াগত চরম আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ২ কোটি ৩ লাখ টাকার একটি ক্ষতিপূরণের চেক ছাড় করেছেন সার্ভেয়ার কমল এবং এখান থেকে ১০% কমিশন বাগিয়ে নিয়েছেন।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কানুনগো আফজাল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “ফাইলটিতে প্রশাসনিক নানা জটিলতা ও আপত্তি ছিল। তবে ওপরের মহলের বিশেষ অর্ডারের (নির্দেশ) মাধ্যমেই এই টাকা ছাড় করা হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না।”এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, কমল দেবনাথের আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বরিশালে নির্মাণাধীন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি পাঁচতলা ভবন, পটুয়াখালী শহরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ জেলায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের ভূমি সম্পত্তি এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে অসংখ্য বেনামি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দর এলাকায় অধিগ্রহণকৃত কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমির একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণও রয়েছে তার সিন্ডিকেটের হাতে।ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমল দেবনাথের মূল কর্মস্থল খুলনা বিভাগে হলেও এক অদৃশ্য ইশারায় তিনি বছরের পর বছর পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রেষণে খুঁটি গেড়ে বসে আছেন।অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার কমল দেবনাথের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ওপরের নির্দেশ ও নিয়ম মেনেই সব ফাইল সই হয়েছে বলে ফোন কেটে দেয় পরবর্তীতে সে আর ফোন রিসিভ করেননি। “দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ২ কোটি ৩ লাখ টাকার চেক ছাড় এবং চর বলিয়াতলী মৌজার ৪ কোটি টাকার জালিয়াতির ফাইলসহ কমলের বিগত কয়েক বছরের সমস্ত প্রেষণ ও পোস্টিংয়ের নথি তলব করা হয়েছে। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে।
এই বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বলেন যথাযথ অভিযোগ যায় দায়ের করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়,,,,

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

খুলনায় পোস্টিং হলেও পটুয়াখালীতে সার্ভেয়ার কমলের একক রাজত্ব: এলএ কেসে ৪ কোটির জালিয়াতি ও আপত্তি উপেক্ষা করে ২ কোটি ৩ লাখ চেক ছাড়।

আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব,,,

মূল পোস্টিং খুলনা বিভাগে হলেও প্রেষণের (ডেপুটেশন) সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীতে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ। তার বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ভুয়া খতিয়ানে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং একটি শক্তিশালী কমিশন বাণিজ্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটুয়াখালীর এলএ কেস নং-১৬/২০১৭-২০১৮ (মৌজা: চর বলিয়াতলী) এর আওতায় প্রায় ৪ কোটি টাকার সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি ভুয়া এবং নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে দেখিয়ে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ ও তার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফারুকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঢাকা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।শুধু তাই নয়, পটুয়াখালীর আরেকটি প্রকল্পে আইনি ও প্রক্রিয়াগত চরম আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ২ কোটি ৩ লাখ টাকার একটি ক্ষতিপূরণের চেক ছাড় করেছেন সার্ভেয়ার কমল এবং এখান থেকে ১০% কমিশন বাগিয়ে নিয়েছেন।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কানুনগো আফজাল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “ফাইলটিতে প্রশাসনিক নানা জটিলতা ও আপত্তি ছিল। তবে ওপরের মহলের বিশেষ অর্ডারের (নির্দেশ) মাধ্যমেই এই টাকা ছাড় করা হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না।”এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, কমল দেবনাথের আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বরিশালে নির্মাণাধীন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি পাঁচতলা ভবন, পটুয়াখালী শহরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ জেলায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের ভূমি সম্পত্তি এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে অসংখ্য বেনামি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দর এলাকায় অধিগ্রহণকৃত কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমির একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণও রয়েছে তার সিন্ডিকেটের হাতে।ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমল দেবনাথের মূল কর্মস্থল খুলনা বিভাগে হলেও এক অদৃশ্য ইশারায় তিনি বছরের পর বছর পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রেষণে খুঁটি গেড়ে বসে আছেন।অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার কমল দেবনাথের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ওপরের নির্দেশ ও নিয়ম মেনেই সব ফাইল সই হয়েছে বলে ফোন কেটে দেয় পরবর্তীতে সে আর ফোন রিসিভ করেননি। “দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ২ কোটি ৩ লাখ টাকার চেক ছাড় এবং চর বলিয়াতলী মৌজার ৪ কোটি টাকার জালিয়াতির ফাইলসহ কমলের বিগত কয়েক বছরের সমস্ত প্রেষণ ও পোস্টিংয়ের নথি তলব করা হয়েছে। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে।
এই বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বলেন যথাযথ অভিযোগ যায় দায়ের করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়,,,,