ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ৪ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

 

 

কুড়িগ্রামে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি শাহাজালাল সবুজ, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের রুকন আব্দুস সালাম সুজা এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম মিলে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি জেলা জামায়াতের নেতাদের জানানো হলে অভিযুক্তদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পরে জেলা জামায়াতের আমীরও বিষয়টির সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্তরা চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দ্রুত টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

তবে অভিযুক্ত চার নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলার বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ৪ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কুড়িগ্রামে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি শাহাজালাল সবুজ, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের রুকন আব্দুস সালাম সুজা এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম মিলে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি জেলা জামায়াতের নেতাদের জানানো হলে অভিযুক্তদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পরে জেলা জামায়াতের আমীরও বিষয়টির সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্তরা চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দ্রুত টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

তবে অভিযুক্ত চার নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলার বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।