ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে যানজট নিরসনে বড় পদক্ষেপ: শহীদ মিনারের অব্যবহৃত অংশ অপসারণে শুরু সড়ক প্রশস্তকরণ

 

বহু বছরের তীব্র যানজট, দীর্ঘ অপেক্ষা আর জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরকে যানজটমুক্ত করতে যৌথভাবে শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে জিরো পয়েন্টে অবস্থিত শহীদ মিনারের মূল কাঠামো অক্ষত রেখে অব্যবহৃত অংশ অপসারণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সূচনা করা হয়। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। প্রতিদিন হাজারো ছোট-বড় যানবাহন এ মোড় দিয়ে চলাচল করায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে তীব্র যানজট লেগেই থাকত। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাত।

সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ।

অটোরিকশা চালক হামিদুল ও রহিম বলেন, “শাপলা চত্বরে পৌঁছালেই ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। মোড়টি বড় হলে আমাদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তি কমবে।”

দূরপাল্লার বাসচালক বক্তার মিয়া ও আবু মুছা বলেন, “মোড়টি প্রশস্ত হলে রংপুর ও চিলমারীগামী বড় যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম পৌরসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ও প্রশস্ত করা হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও কমে যাবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন অক্ষত রেখেই কেবল অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব হয়। কাজ শেষ হলে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট থেকে নগরবাসী অনেকটাই স্বস্তি পাবে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক প্রশস্তকরণের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পুরো এলাকা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম বড় যানজটের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচল হবে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে যানজট নিরসনে বড় পদক্ষেপ: শহীদ মিনারের অব্যবহৃত অংশ অপসারণে শুরু সড়ক প্রশস্তকরণ

আপডেট সময় : ১২:১২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

 

বহু বছরের তীব্র যানজট, দীর্ঘ অপেক্ষা আর জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরকে যানজটমুক্ত করতে যৌথভাবে শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে জিরো পয়েন্টে অবস্থিত শহীদ মিনারের মূল কাঠামো অক্ষত রেখে অব্যবহৃত অংশ অপসারণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সূচনা করা হয়। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। প্রতিদিন হাজারো ছোট-বড় যানবাহন এ মোড় দিয়ে চলাচল করায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে তীব্র যানজট লেগেই থাকত। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাত।

সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ।

অটোরিকশা চালক হামিদুল ও রহিম বলেন, “শাপলা চত্বরে পৌঁছালেই ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। মোড়টি বড় হলে আমাদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তি কমবে।”

দূরপাল্লার বাসচালক বক্তার মিয়া ও আবু মুছা বলেন, “মোড়টি প্রশস্ত হলে রংপুর ও চিলমারীগামী বড় যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম পৌরসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ও প্রশস্ত করা হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও কমে যাবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন অক্ষত রেখেই কেবল অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব হয়। কাজ শেষ হলে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট থেকে নগরবাসী অনেকটাই স্বস্তি পাবে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক প্রশস্তকরণের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পুরো এলাকা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম বড় যানজটের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচল হবে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।